এস এম রুবেল, কক্সবাজার: জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ও জিও ব্যাগ ভেঙে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করেছে মাতারবাড়িতে। এতে কৃষকদের চাষাবাদ বিনষ্টের পাশাপাশি ভেঙেছে প্রায় ২৫টির মতো বসতঘর এবং ক্ষতির মুখে পড়েছে আরও ৫০০ পরিবার। সেসব পরিবার এখন বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে ঝুপড়িতে।
কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। মহেশখালীর অপর দুটি ছোট দ্বীপ ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি। এই দুটি আলাদা ইউনিয়নও।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাতারবাড়ির জালিয়াপাড়া গ্রামটি সাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এসে অনেক পরিবারের আশ্রয়স্থল ঘরটুকু ভেঙে নিয়ে গেছে। কেউ কেউ ঘরের ভাঙা অংশখানা রক্ষা করতে মাটি, বাঁশ, রশি দিয়ে বেঁধে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভেঙে যাচ্ছে নতুন নতুন আরও বাড়িঘর। কিন্তু ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় পুরো গ্রামটি ভেঙে গিয়ে সাগরে বিলীন হতে পারে এমন শঙ্কায় স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের কবল থেকে রক্ষা পেতে এই মাতারবাড়ি-ধলঘাটার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ স্থাপনের। ২০১৪ সালে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যখন অনুমোদন হয়, তখন বেড়িবাঁধ স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়রা আরও সোচ্চার হয়। কিন্তু সেই দাবি প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থেকে গেল।
কথা হয় ৭০ বছরের বৃদ্ধ আমেনা বেগমের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাপরে আমার ঘরসহ ঘরের সব মালামাল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কিছুই রাখতে পারি নাই। কোনো রকমে জীবন নিয়ে বেঁচে আছি, পরনের এই কাপড়গুলা ছাড়া আমার আর কোনো কিছুই নাই। কোথায় থাকব, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।’
নুর হোছাইন জানান, জোয়ারের পানিতে কয়েকবার ছোট্ট কুঁড়েঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও জোড়াতালি দিয়ে মাথা গুছিয়ে ছিলেন এতদিন। গত রাতে সেই মাথা গুঁজানোর টাইটুকু চিরতরে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সাইফ আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে ১০০টি জিও ব্যাগ সেখানে পাঠানো হয়েছে। এগুলো বসালে ভাঙন কিছুটা রোধ হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করেছেন বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দার। তিনি বলেন, হঠাৎ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। তাদের স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।