পি কে হালদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ভারতের আদালতে চার্জশিট গ্রহণ

শেয়ারবিজ ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে গ্রেফতার পিকে হালদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্রের শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে কলকাতার আদালত। পরবর্তী শুনানি হবে ১০ আগস্ট।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তদের নগর দায়রা আদালতে বিচারপতি জীবনকুমার সাধুর এজলাসে তোলা হয়। এরপর আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের দুদকের কাছে থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট ভৈদিক ভিলেজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় পি কে হালদারকে।

গত ১৪ মে তার সঙ্গে আরও গ্রেফতার হন তার বান্ধবী, আপন ভাই, দুই ভাগ্নেসহ ৫ জন। শুক্রবার তাদের কলকাতার নগর ও দায়রা আদালতে তোলার কথা রয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ৫ জুলাই আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১০ দিনের জেল হেফাজত দেন। আটকের ৫৯ দিনে প্রাথমিক চার্জশিট দাখিল করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পি কে হালদার এবং তার সহযোগীদের নামে ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি আইন এবং ২০০২-এর প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছিল, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার নাম পাল্টে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে বসবাস করতেন। প্রদেশের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

ইডি জানিয়েছিল, ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধার সহায়তায় পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের একাধিক রাজ্যে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থপাচারের মাধ্যমে ভারতে একাধিক অভিজাত বাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে খোঁজ পেয়েছে ইডি।

দেশটির কেন্দ্রীয় এই তদন্ত সংস্থা জানিয়েছিল, তারা ইতোমধ্যে পি কে হালদারের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছেন। এসব নথিতে প্রাথমিকভাবে ভারতে তার ২০ থেকে ২৫টির মতো বাড়ির মালিকানার তথ্য মিলেছে। এছাড়া অভিযানের সময় পি কে হালদারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ইডি বলেছে, বাংলাদেশি নাগরিক প্রশান্ত কুমার হালদার নিজেকে শিব শঙ্কর হালদার নামে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

বাংলাদেশি এই অর্থপাচারকারী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে ভারতীয় রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান এবং আধার কার্ডও সংগ্রহ করেছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদারের অন্য সহযোগীরাও ভারতীয় এসব কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করেন।

পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাত, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই মামলাগুলো করা হয়েছে।

পি কে হালদারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশের উচ্চ আদালত। এ তালিকায় সুকুমার ও তার মেয়ে অনিন্দিতাও ছিলেন। পরে এ দু’জনসহ ৬২ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করে দুদক।