Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 11:25 am

পেঁয়াজের দামে কারসাজি নিয়ন্ত্রণে নজর দিন

ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়েছে। এখন বাংলাদেশকে আগের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হতে পারে। অধিক দামে পেঁয়াজ আমদানি শুরুর আগেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার শঙ্কা অতীতে বারবার ঘটেছে। এমন সুযোগে গুদামজাতকারী ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার ফাঁদ পাতেন। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।
বন্যার অজুহাতে ভারত দ্বিতীয় দফায় পেঁয়াজ রফতানিতে দাম বাড়ানোয় হিলি স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীরা হয়তো দেশি বাজারে এ বাড়তি দামের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বাজারজাত করবে। কিন্তু সে পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও তিন বা চার দিন সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে যেন পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। তাছাড়া ভারতের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে বন্যা হওয়ায় সে দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিকে নিরুৎসাহিত করছে। কিন্তু খোদ ভারতের ব্যবসায়ীরাই আশঙ্কা করছেন, তাতে ভারতের পেঁয়াজের বাজারের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ঘুরে চীন, মিসর ও পাকিস্তানের মতো অন্য কোনো দেশে পড়বে। একইভাবে আমাদেরও চিন্তা করতে হবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের নিরুৎসাহের পেছনে ছুটে দেশের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কার্যত বোকামি। অন্য যে দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলে দেশের বাজারে ভারসাম্য রাখা যায়, তা বিচার করতে হবে। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ কৃষক। পেঁয়াজের এ দাম বৃদ্ধিতে যেসব মধ্যস্বত্বভোগী পেঁয়াজ কিনে গুদামজাত করেছে, তারা বহুগুণ বেশি দামে বিক্রির ফাঁদ পাতবে। এতে সাধারণ মানুষকেই বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে। ফলে কৃষক ও ভোক্তাদের মতো দুটি সাধারণ শ্রেণি বঞ্চিত হলেও ব্যবসায়ী শ্রেণি বিশাল ব্যবধানে লাভ করবে। ফলে দেশের আয়-বৈষম্যের শোচনীয় বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বস্তুত দেশের বাজারে কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেলে সাধারণ ভোক্তাশ্রেণির কোনো প্রস্তুতি থাকে না এবং কোনো প্রতিবাদ বা বিকল্প উপায় গ্রহণ করতে পারে না। তারা পরিস্থিতির কাছে কেবলই অসহায়। পেঁয়াজের মতো যে কোনো কাঁচাপণ্যের কৃষকেরও জীবনমানে আটপৌরে দশা কাটে না। পেঁয়াজের দরে কারসাজি ঠেকিয়ে আয়-বৈষম্যের এ অসহায়ত্ব কাটিয়ে কৃষক ও ভোক্তা সাধারণ শ্রেণিকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।