শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনকে মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে তাইওয়ান। প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের বার্ষিক সামরিক ব্যয় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ানোর কথা রয়েছে। খবর: রয়টার্স।
২০২১ সালের জন্য এ প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেটের আকার দাঁড়াবে ১৯ বিলিয়ন (১ হাজার ৯০০ কোটি) ডলারে। নতুন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন বলেন, কোনো চাপ অথবা হুমকিতে আমরা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প থেকে সরে যাব না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে তাইওয়ান কিছু উসকে দেবে না এবং সংঘাতেও জড়াবে না।
চীনের হুশিয়ারি উপেক্ষা করে চলতি মাসে তাইওয়ানে সফর করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তাতে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় চীন। তাইওয়ানের আশপাশে নজিরবিহীন সামরিক মহড়ার আয়োজন করে চীনা সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও লাইভ ফায়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস এ মহড়াকে ‘পুনর্মিলক কার্যক্রমের’ অনুশীলন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিং বলেছে, যে ছয়টি অঞ্চলে মহড়া অনুষ্ঠিত হবে, তার মধ্যে কয়েকটি তাইওয়ানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়ে। এতে তাইপের সঙ্গে বেইজিং সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়।
এ পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক খাতে বার্ষিক ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিল তাইওয়ান।
তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে চীন সরকার। তাই ন্যান্সি পেলোসির সফরের কারণে দেশটির কয়েকশ পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। এ নিষেধাজ্ঞা তাইওয়ানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ান থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লেবু বা কমলা জাতীয় ফল, কয়েক প্রজাতির মাছসহ বহু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া পেলোসির সফরের এক দিন আগে তাইওয়ানে উৎপাদিত বিস্কুট ও কনফেকশনারি খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্থনীতির জন্য অনেকাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল তাইওয়ান। তাছাড়া অন্যতম বাণিজ্যিক সহযোগীও তারা।