Print Date & Time : 21 April 2026 Tuesday 2:08 am

প্রান্তিক খামারিদের কোটি টাকার ক্ষতি

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম : তীব্র তাপপ্রবাহ, লাগাতার লোডশেডিং ও বাজার অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মুরগি। এতে ক্ষতিতে পড়ছেন দেশের প্রান্তিক খামারিরা। ব্রয়লার সোনালি ও লেয়ার মুরগির আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও গত ১৫ দিনে দেশে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে দেখা গেছে। অপরদিকে তীব্র তাপদাহে লোডশেডিংও হচ্ছে। তাতে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মুরগি। এতে পুঁজি হারিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামার।
দেশের বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুমিল্লা ৩৪, বরিশাল ৩৩ ও রাজশাহীতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। তবে প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৪ বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও ফিললাইক তাপমাত্রা আরও তিন থেকে চার ডিগ্রি বেশি ছিল। অর্থাৎ ব্রয়লার সোনালি ও লেয়ার মুরগির আদর্শ তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম পড়ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) জানায়, বর্তমানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির মৃত্যুহার গড়ে ১০ শতাংশ এবং লেয়ার (ডিম পাড়া) মুরগির মৃত্যু পাঁচ শতাংশে পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে সামনের দিনগুলোয় ডিমের উৎপাদন কমবে পাঁচ শতাংশ এবং মাংস উৎপাদন কমবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ে নরসিংদী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কাপাসিয়া, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনীসহ প্রায় সব জেলাতেই প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে বাজার অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই। এই সংকট শুধু মুরগির মৃত্যু নয়, কোটি কোটি টাকার পুঁজি ধ্বংস হচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে, সর্বশেষ আমিষ নিরাপত্তার ভিত্তি ধ্বংস হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে দিনে ডিমের চাহিদা প্রায় চার কোটি, আর উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি। ব্রয়লার মুরগির দৈনিক চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৫০০ টন, উৎপাদন প্রায় চার হাজার টন। তাহলে প্রশ্ন হলোÑসংকট কোথায়? কেন বারবার বাজার অস্থির হয়ে পড়ে? কেন ডিম-মুরগি আমদানির প্রশ্ন ওঠে? মাত্র ২০ শতাংশ ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে যে করপোরেট কোম্পানিগুলো, সরকারের নজর সেখানেই সীমাবদ্ধ।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে ৭০ থেকে ৮০ হাজার খামারি চরম ঋণের জালে পড়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। এতে হুমকিতে পড়বে প্রায় ৫০ মানুষের কর্মসংস্থান। বারবার সতর্ক করার পরেও এই সেক্টর নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করছে।’

তিনি বলেন, চাহিদা বাড়লে করপোরেট কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ফিড ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়; যখন চাহিদা কমে, তখন দাম কমিয়ে প্রান্তিক খামারিদের লোকসানে ফেলে। ব্রয়লার বাচ্চার দাম এক সপ্তাহে ৫০ টাকা থেকে ৯০-১০০ টাকায় উঠে যায়, আবার হঠাৎ কমে যায়। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, এই সংকটের সময় প্রান্তিক খামারিরা পান না কোনো সরকারি সহায়তা, নেই কোনো বিকল্প সুরক্ষা।’

এদিকে তীব্র গরমে প্রান্তিক খামারিদের জন্য জরুরি করণীয় হিসেবে পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন পরামর্শ দিচ্ছেÑখামারের চাল বা ছাদে ভিজানো বস্তা বা ছালার চট টানিয়ে দিতে। মুরগির গায়ে দিনে দু-তিন বার ঠান্ডা পানি স্প্রে করতে। ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতি পূরণে দুপুরে মুরগিকে লেবু ও গুড়মিশ্রিত শরবত দিতে। অতিরিক্ত উত্তাপে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খাবার বন্ধ রাখতে। খামারে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পানি ও হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, ফ্যান বা হাতপাখা চালু রাখুন।