কামরুল হাসান নিরব, ফেনী:খোলা আকাশের নিচে বেঞ্চে বসে খাতা-কলমে লিখছেন ১৭ শিক্ষার্থী। টেবিলেও বসার জায়গা কম। দুজনের স্থলে তিনজন বসেছে, কোথাও চারজন। ফেনীর সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের এ হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি মাত্র দুই কক্ষবিশিষ্ট হওয়ায় দুই পালায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু তারপরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় পড়ালেখা চলছে আকাশের নিচে। পরীক্ষা চলাকালে কিংবা পরীক্ষার সময় সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
বিদ্যালয় ভবনটিও জরাজীর্ণ। শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো কক্ষও নেই। সিঁড়িঘরে চলে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ১৯৭৩ সালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির দান করা ৫৩ শতক জমির ওপর টিনশেডে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। চার-পাঁচ বছর পর টিনের চাল নষ্ট হওয়ায় বেশ কয়েক বছর বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় ১৯৯০ সালে আবার চালু করা হয়। ১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা পাকা ভবন নির্মিত হয়। ২২ থেকে ২৩ বছরের পুরোনো ভবনটির নানা স্থানে এরই মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে পলস্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসে একত্রে পড়ালেখা করছে। অপর কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছে। বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব পাশে খোলা আকাশের নিচে টেবিল-চেয়ারে চলছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। শিক্ষকদের বসার কোনো স্থান না থাকায় সিঁড়িঘরে বসে অফিসের কাজ করছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। পর্যাপ্ত জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ২২ শিক্ষার্থীর পাঠদান মাঠেই চলছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।




