চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত

বছরে হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: ২০২৪ সালের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপিঋণের দায়ে করা অর্থঋণ মামলা ও জারি মামলা পরিচালনা করে ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আদায় করেছেন চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। এ সময় এসএ গ্রুপ, লিজেন্ড গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপসহ বেশ একাধিক ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে। গত চার বছরে তিন হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে।

সংষ্ট্রিষ্ট ব্যাংক ও অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত দেড় শতকে ভোগ্যপণ্য আমদানি, আবাসন, ইস্পাত শিল্প, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের প্রয়োজনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে লাভবান হতে না পেরে খেলাপি হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের শত শত ব্যবসায়ী। এ ঋণ খেলাপি তালিকায় আছে চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র মুদির দোকার হতে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী পর্যন্তু। আর ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অধিক খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলা চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে চলমান আছে। এর মধ্যে গত ২০২১ সালে অর্থঋণ ও জারি মামলা হয়েছিল এক হাজার ১৭৪টি। একই সময় নিষ্পতি হয়েছিল ৫৪২টি মামলা। আর এসব মামলা থেকে ৫৫৭ কোটি খেলাপি ঋণ আদায় করে আদালত। এভাবে ২০২২ সালে অর্থঋণ ও জারি মামলা হয়েছিল এক হাজার ৪৬৮টি।

একই সময়ে নিষ্পতি হয়েছিল এক হাজার ৫৮৮টি মামলা। এসব মামলা থেকে ৮৯৮ কোটি খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছিল। আর ২০২৩ অর্থঋণ ও জারি মামলা হয়েছিল দুই হাজার ১৮৯টি। একই সময়ে নিষ্পতি হয়েছিল এক হাজার ৬০৬টি মামলা। আর এসব মামলা থেকে ৯৮৫ কোটি খেলাপি ঋণ আদায় করে আদালত। সর্বশেষ ২০২৪ সালে অর্থঋণ ও জারি মামলা হয়েছিল এক হাজার ৮০৯টি। একই সময়ে নিষ্পতি হয়েছিল এক হাজার ১৪৪টি মামলা। আর এসব মামলা থেকে ৯৯৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। সবমিলিয়ে গত চার বছরের চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত তিন হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করে।

ব্যাংক, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংক ঋণের সুদ বেশি, অপরাজনীতির শিকার, টানা লোকসান, ব্যাংকের দায় পরিশোধে ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এমন অবস্থা হয়েছিল। যারা পারছেন তারা এখন পুনঃতফসিল করে ব্যবসায় ফিরে আসছে। আর যারা পালিয়েছে তাদের কোনো আগ্রহও নেই। তবে ব্যবসায় ফিরে আসার জন্য সরকারের প্রণোদনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্জ সহকারী রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, সবশেষ ২০২৪ সালে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে। এমনকি দেশে বড় অনেক শীর্ষ ঋণখেলাপি থেকে ঋণ আদায়ের নজির সৃষ্টি করেছেন।

এ বিষয়ে ইউসিবি খাতুনগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ হক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে কয়েকটি ভালো গ্রাহক আছে। তবে পুরনো করপোরেটগুলো ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এরই মধ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে। নতুন কওে আরো কেরাপি তৈরি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি ঋণপত্র খুলতে ব্যাংকের অনীহা কিংবা আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। এখন সবাই ঋণ আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো আগের মতো ঋণ বিতরণ করা থেকে সর্তক অবস্থানে আছে।’


চিটাগং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ শেয়ার বিজকে বলেন, অর্থঋণ আইনটি একটি মার্শাল ’ল-এর মতো। এ আইনের আলোকে বিচারের ৮০ শতাংশ ব্যাংকের পক্ষে যাই। আর ব্যাংকাররা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করে ঋণ দিলে এত ঋণখেলাপি হতো না। উল্লেখ যে, সবশের্ষ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে ২০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।