মো. আসাদুজ্জামান নূর: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মূল্যসূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সিংহভাগ সিকিউরিটিজের দর হ্রাস পেলেও সূচক বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। এর পেছনে রয়েছে বড় মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধি।
লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সূচক ইতিবাচক রাখতে ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে ৬৩ দশমিক ০৩ পয়েন্ট। এ কারণে সূচক বেড়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচক ইতিবাচক থাকলেও লেনদেন মন্থর ছিল। এর কারণ হিসেবে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এছাড়া ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের ভালো আয় ঘোষণা হতে পারেÑএমন কোম্পানিতে বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যা বাজারের লেনদেন কার্যক্রম কিছুটা শ্লথ করেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে এক হাজার ২১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা কম। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৩১ কোটি সাত লাখ টাকার।
লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে বিবিধ খাত। ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ লেনদেনের দিনে খাতটির ৬৯ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। বিপরীতে ৩০ শতাংশের কিছু বেশি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। খাতটিতে ৬১ শতাংশের বেশি কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ। খাতটিতে ৫৫ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা।
এছাড়া বস্ত্র ১০ দশমিক ১২, খাদ্য ছয় দশমিক ২৮ ও ট্যানারি খাতে ছয় দশমিক ১৬ শতাংশ লেনদেনের মাধ্যমে তালিকার চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল। এগুলোর মধ্যে ট্যানারি খাতে শতভাগ কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। বাকি দুটিতে বেশি দরপতন দেখা গেছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৭৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৯টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৬টির। দিনের শুরুতে সূচক আরও বেশি বেড়ে লেনদেন হলেও দিন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বাড়ে মাত্র ছয় পয়েন্ট। সূচক অবস্থান করছে সাত হাজার ৪৩ পয়েন্টে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক এক দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়েছে।
গতকাল সূচক পতনের চেষ্টায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও ওয়ালটন হাইটেক। কোম্পানি তিনটির দরপতনে সূচক হ্রাস পেয়েছে ৩০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট।
বিপরীতে এককভাবে সূচক টেনে তুলেছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ৪০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা ১১ দশমিক ৭৬ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ১০ দশমিক ২৮ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছি।




