Print Date & Time : 22 April 2026 Wednesday 7:27 am

বন্ধ হচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংকের মিয়ানমার প্রতিনিধি অফিস

রোহান রাজিব: বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংকের মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস বন্ধের খরচ মেটাতে ৬ হাজার মার্কিন ডলারের অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন ও পলিসি ডিপার্টমেন্ট বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়।

জানা যায়, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইস্টার্ন ব্যাংক তাদের ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে যাচ্ছে। গত দেড় বছর ধরে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখানে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। অদূর ভবিষ্যতে তারা ব্যবসার কোনো আশা দেখছে না। তাই ব্যাংকটি ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস বন্ধের লক্ষ্যে তারা চার্লটন (ল ফার্ম) মিয়ানমারের একজন এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি অফিস বন্ধ করার বিষয়ে এই এজেন্ট কাজ করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, অফিস বন্ধের সব প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই বছর লাগবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর ক্লোজিং খরচ হিসাবে ৩ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে। যদি ক্লোজিং সময় আরও বাড়ে তাহলে বাড়তি ফ্রি দিতে হবে। তখন আরও ৩ হাজার মার্কিন ডলার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিতে হবে। ফলে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ৬ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে ইস্টার্ন ব্যাংককে।

জানা যায়, ইতোমধ্যে ৩১ আগস্ট ২০২২ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিসের বাড়িওয়ালার সঙ্গে ইস্টার্ন ব্যাংকের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নতুন করে চুক্তিটি আর নবায়ন করেনি ইস্টার্ন ব্যাংক।

এই বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলী রেজা ইফতেখারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

পরে ব্যাংকের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, এ বিষয়ে একটি চিঠি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছি। তবে গোপনীয়তার জন্য বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, ব্যবহƒত কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও অন্যান্য লিপিবদ্ধ জিনিসপত্রের মূল্য ইতোমধ্যে কমতে কমতে এক টাকার নিচে গেছে। এগুলো আপাতত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসে রাখা হবে। এছাড়া একটা সময় অতিবাহিত হওয়ায় দুটো টেবিল, দুটো ছোট চেয়ার ও একটা বড় চেয়ারের আসবাবপত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় তা স্থানীয় বাজারে ৪ হাজার ৯৫৮ টাকায় বিক্রি সম্ভব নয়। তবে আমরা কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আসবাবপত্র সেখানেই থাকবে এবং সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর, নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন করা অব্যাহত রাখব।

এখন পর্যন্ত পরিচালনা খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে, সেখানের দেশীয় ইয়ান মুদ্রার সমপরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৭৬২ ডলার। পাশাপাশি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত ইস্টার্ন ব্যাংকের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করছি। এতে আমাদের বিদেশে অবস্থিত অফশোর অফিস বন্ধ করতে সহযোগিতা চাচ্ছি; যাতে ৬ হাজার ডলার খরচ কমে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব মিয়ানমার থেকে প্রাপ্ত লাইসেন্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি অফিস) পরিচালনা করছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাজনৈতিক অবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এনওসি চেয়ে চিঠি দেয় ইস্টার্ন ব্যাংক।

মিয়ানমার ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংকের চীন ও হংকংয়ে অফিস রয়েছে। ২০১৩ সালে হংকংয়ে নিজস্ব ফাইন্যান্স কোম্পানি-ইবিএল ফাইন্যান্স (এইচকে) চালুর মাধ্যমে বিদেশে কার্যক্রম শুরু করে ইবিএল। এরপর ২০১৯ সালে চীনের গুয়াংঝুতে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) প্রতিনিধি অফিস খোলে। ইবিএল প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনে কার্যক্রম শুরু করে।