নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল ছিল ঋতুরাজ বসন্তের যেমন শেষ দিন, ঠিক তেমনই চৈত্রের। আবহমান বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই বর্ষবিদায় বা চৈত্রসংক্রান্তি। আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন বরণ করে নিতে রাজধানীর রমনার বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তা ঠিক রাখতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নববর্ষকে কেন্দ করে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলা প্রাঙ্গণে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। রং-বেরঙের বেলুন ঝোলানো হয়েছে মঞ্চের সামনে। মঞ্চের পেছনে পাটকাঠি দিয়ে তৈরি হচ্ছে আবরণ। নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে আনা হয়েছে ১৮টি ঘোড়া। এই ঘোড়াগুলো আজ পহেলা বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রায় যুক্ত হবে।
প্রস্তুতি সম্পর্কে চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ভাস্কর্যশিল্পী দীপক রঞ্জন সরকার শনিবার ফ্যাসিবাদের দৈত্যাকৃতির মুখাকৃতি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, গতকালের নাশকতা না ঘটলে আমাদের সব কাজ গতকালই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু গতকালের ঘটনায় কিছু বিলম্ব হচ্ছে। তবে আজকের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলব আমরা। শিল্পী দীপক বলেন, আমরা ‘মাছ’, ‘বাঘ’, ‘তরমুজের ফালি’, ‘পালকি’, ‘মুগ্ধের পানির বোতল’ মোটিফের কাজ শেষ করেছি। গতকাল ‘৩৬ শে জুলাই’ ও ‘শান্তির পাখি কবুতর’ পুড়িয়ে দেয়া হলেও আমরা তা রিকভার করেছি এবং এখনও কাজ চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন বলেন, ‘আমরা আমাদের চেষ্টা করছি। আগামীকালের অংশগ্রহণ হবে কালারফুল। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের মানুষ সেখানে অংশগ্রহণ করবে।’
এদিকে গতকাল বর্ষ বিদায়ের উপলক্ষে কেন্দ্র করে নগরের সিআরবিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নববর্ষ উদযাপন কমিটি। এছাড়া নগরের অন্যান্য স্থানেও হয়েছে আয়োজন। একই সঙ্গে আজ (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণে প্রস্তুত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এবার নগরের ডিসি হিল, সিআরবি শিরীষতলা ও চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে নববর্ষের অনুষ্ঠান হবে।
নগরের বাদশা মিয়া সড়কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিল্পী রশিদ চৌধুরী আর্ট গ্যালারি চত্বরে শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন বর্ণিল রঙে আঁকা নানা প্রতিকৃতি। যার মধ্যে রয়েছে মাছ, ঘোড়া ও মোরগের প্রতিকৃতি, যা থাকবে পহেলা বৈশাখ সকালে বের হওয়া শোভাযাত্রায়। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের আঁচড়।
জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসি হিলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে। সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ‘সীমিত পরিসরে’ অনুষ্ঠান চলবে। বর্ষবরণের এই আয়োজনে অংশ নেবে ৫০টির বেশি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
সিআরবিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এতে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আবৃত্তি ও নৃত্যদল তাদের দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগর পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে অন্য ইউনিটগুলো।




