অধ্যাপক ডা. সৈয়দ এ কে আজাদ : বর্ষাকালে চোখের নানা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় কনজাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ ওঠা সমস্যা। এ রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যারা থাকেন, তারাও এতে আক্রান্ত হন। এজন্য সতর্ক থাকা দরকার।
লক্ষণ: চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা খচখচ করা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখের নিচের অংশ ফুলে যাওয়া, চোখ জ্বালা করা ও চুলকানি এবং আলোয় সংবেদনশীলতা।
চিকিৎসা: বেশির ভাগ কনজাঙ্কটিভাইটিস ভাইরাসজনিত রোগ। এটি এমনিতেই সেরে যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসকের
পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করার দরকার হতে পারে। এ অবস্থায় চোখ ও এর চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। নখ বা হাত দিয়ে চোখ চুলকানো বা রগড়ানো যাবে না। ময়লা জমলে টিস্যু পেপার বা পাতলা নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে নিন; পানির ঝাপটা দিলে আরাম পাওয়া যায়।
প্রতিরোধ: সব সময় হাত-পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে। রাস্তায় নোংরা পানির সংস্পর্শে এলে বাড়ি ফিরেই হাত-পা ধুয়ে ফেলবেন। চোখ ভেজা থাকলে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিন এবং ব্যবহƒত টিস্যু পেপার অবশ্যই ময়লার ঝুড়িতে ফেলবেন, নইলে এ টিস্যু পেপার থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
রোদ-চশমা বা চশমার ব্যবহার ভালো। এতে চোখে ভুলবশত হাত লেগে যাওয়া এবং ধুলা ও ধোঁয়া থেকে বাঁচা যায়। নিজের ব্যবহার করা প্রসাধনসামগ্রী অন্য কাউকে ব্যবহার করতে না দেয়াই ভালো। নিজেরও অন্যের ব্যবহƒত তোয়ালে, রুমাল, বালিশ, চাদর ও প্রসাধনী ব্যবহার করা মোটেই ঠিক নয়।
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
বিভাগীয় প্রধান, আল-রাজী হাসপাতাল, ঢাকা