নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানিতে ফিলিপাইন আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল সচিবালয়ে চাল রফতানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজ ফিলিপাইন থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসেছে। তারা চালের আমদানিতে ফিলিপাইন সরকারকে সহযোগিতা করেন। দেশটির সরকারও বলছে, তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে চাল কিনতে পারে। ফিলিপাইনের মানুষ সিদ্ধ চাল খায়। প্রতিনিধিদলটি আমাদের কিছু মিলারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তারা মনে করেছে, দামও মোটামুটি ন্যায্য।
অনেক মিলার-ব্যবসায়ীদের গুদামে যথেষ্ট চাল রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চালের দাম খুবই কম। এজন্য আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের চাষিরা সত্যিকারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ধান চাষাবাদ করে তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিছু চাল আমরা রফতানি করব। কী পরিমাণ রফতানি করা যাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে চালের উদ্বৃত্ত আছে। ১০ লাখ টন চাল রফতানি করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু যে কোনো সময় বন্যাসহ অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। সে কারণে আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হবো। ওরা এক লাখ টন নিতে চাচ্ছে। ফিলিপাইন সরকারও আমাদের সরকারের কাছ থেকে চাল কিনতে চাচ্ছে।
চাল রফতানিতে কৃষক পর্যায়ে প্রভাবের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, যদি পাঁচ লাখ টন চাল রফতানি করতে পারি অবশ্যই দামের ওপরে প্রভাব পড়বে। চাল রফতানিতে সাধারণ মানুষ কোনো চাপের মধ্যে পড়বে না বলেও জানান তিনি। ফিলিপাইনের ব্যবসায়ীরা কোন ধরনের চাল কিনতে চান জানতেÑচাইলে রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, মাঝারি ধরনের আটাশ ও ঊনত্রিশ চালের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি মিনিকেটও কিছু রফতানি করা যেতে পারে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে বন্যায় তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এখন মাঠে তেমন কোনো ফসল নেই। বন্যার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বন্যার দরকার আছে দুটি কারণেÑআমরা যে সেচ ব্যবস্থায় গেছি, নিচ থেকে পানি তুলে খরচ করছি। এটা পূরণ করতে হবে। বন্যা না হলে, বৃষ্টি না হলে এটা কীভাবে হবে। পানির স্তর আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাচ্ছে। আরেকটা হলো, বন্যার পানির সঙ্গে অনেক পলি আসে, যেটার মধ্যে অনেক নিউট্রিয়ান্ট ও অনেক সার আছে। এটাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। বন্যায় ক্ষতি না চাইলেও স্বাভাবিক বন্যা দেশের জন্য, চাষিদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গলের বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।




