Print Date & Time : 25 April 2026 Saturday 5:37 pm

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু পুরোনো। বন্ধুত্বের এ সম্পর্ক আরও গভীর করতে অর্থনৈতিক খাত একটি সম্ভাবনার দুয়ার। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারলে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে বহুমাত্রা দিতে পারে দুই দেশের বিনিয়োগ। এর ওপরই বাংলাদেশ-ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করছে। সুপ্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুই দেশেরই উন্নয়ন ঘটাবে। সুপ্ত এ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সম্ভাবনাময় করে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন কথা বলেন।

রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত অটো কম্পোনেন্ট শো’ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলারস অ্যান্ড ম্যানুফেচারারস অ্যাসোসিয়েশন (বামাকা) এবং অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফেচারারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (আকমা) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাহনে ব্যবহƒত যন্ত্রাংশের বাজার অনেক বড়। এসব পণ্য সরবরাহকারীর মধ্যে ভারত এগিয়ে রয়েছে। এখন যদি ভারতীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশেই যন্ত্রাংশগুলো তৈরি করেÑতাহলে যন্ত্রাংশগুলো আরও কম দামে বিক্রি করতে পারবে। এতে দুই দেশের উদ্যোক্তারাই লাভবান হবে। মানুষের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ ও চলাচলের স্বাধীনতা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের বড় বাজারের সুবিধা নিতে পারে ভারতীয় উদ্যোক্তারা। এজন্য বাংলাদেশেই অটোমোবাইল বাহনের যন্ত্রাংশ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

ফিতা কেটে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এই মেলার উদ্দেশ্য হলো অটো কম্পোনেন্টের ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

এ সময় অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অব ইন্ডিয়া (আকমা)-এর মহাপরিচালক ভিনি মেহতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ভারতের চেয়েও বেশি। বিশাল জনসংখ্যার চাহিদার একটি বাজার তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তির প্রয়োজনেই যানবাহনের বিশেষ করে দুই চাকার বাহনের ব্যবহার বাড়ছে। মানুষের চাহিদা বাড়বে। এজন্য ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হওয়া যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারলে খরচ কমে যাবে। ভারতীয় উদ্যোক্তারা চান বিশাল এ সম্ভাবনার বাজার ধরতে চান।

মেলায় দেশীয় উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করেন পণ্য নিয়ে। এতে রানার গ্রুপ, র‌্যাংগস গ্রুপ ও ইফাদ অটোসের প্রতিনিধি, অটোমোবাইল কম্পোনেন্টের স্থানীয় উৎপাদনকারী, খুচরা বিক্রেতা এবং আমদানিকারকরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এ আয়োজনের পরবর্তী অনুষ্ঠান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয় মেলা আয়োজক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।