Print Date & Time : 24 May 2026 Sunday 5:57 am

বাজেটে কর ছাড় চায় ব্রোকারেজ হাউসগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসছে অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উৎসে করহার কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উৎসে কর কর্তনের হার বিদ্যমান ০.০৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০২০ শতাংশ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে এই সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা উৎসে করকে আরও সহজীকরণ করার জন্য বলছি। আমরা উৎসে করের পরিবর্তন চাচ্ছি। করের হার আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, যেমন ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের তুলনায় আমাদের দেশে সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর উৎসে করের হার অনেক বেশি। বর্তমানে বাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আয়ও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে এবং আয় না হলেও আয়কর দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই করহার কমানোর সুপারিশ করছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক লাখ টাকায় আমাদের উৎসে কর দিতে হয় ৫০ টাকা, যেখানে ভারতে প্রতি এক লাখে উৎসে কর দিতে হয় ১০ রুপি। এ ছাড়া পাকিস্তানে ০.৬৫ রুপি, সিঙ্গাপুরে ০.৭৫ ডলার এবং হংকংয়ে ৫.৬৫ ডলার দিচ্ছে।’ ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর কমিশন ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান আয়ের উৎস। অত্যধিক হারে কর আরোপ করার ফলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পক্ষে টিকে থাকা এবং পুঁজিবাজারে অবদান রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজেই ব্রোকারেজ হাউসের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর বিদ্যমান কর হার যৌক্তিক কারণে হ্রাস করা একান্ত প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী করদাতাদের মূলধনি ক্ষতির সমন্বয় বা জের পরবর্তী বছরগুলোতে টানার অনুমতি নেই। লোকসানের সমন্বয় ও জের টানার অনুমতি না থাকার ফলে উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়ে এবং বিনিয়োগে নিরুৎসায়ী হয়ে বাজার ত্যাগ করে। গত কয়েক বছর ধরে বাজারে মন্দা বিরাজ করায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী লোকসানের কবলে পড়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে লোকসানে থাকা বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ধরে রাখতে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বিদ্যমান ‘আয়কর আইন ২০২৩’-এর নবম অধ্যায়, ধারা ৭০-এর (৩)-এর সঙ্গে বর্ধিত বিধান সংযোজনের সুপারিশ করছি।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হয়, এমন কোনো উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাবে না। তবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটিজ অথবা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ড বা তহবিলের ইউনিট লেনদেনের মাধ্যমে মূলধনি ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সরকার আমাদের সুপারিশ সুবিবেচনায় নিয়ে আসন্ন বাজেটে এর বাস্তবায়ন করে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ সুগম করবে।’
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) জরিমানা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সতি?্যকার অর্থে বিএসইসিতে কোনো কাজ হচ্ছে না। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। বড় পুঁজির বিনিয়োগ না হলে কখনোই পুঁজিবাজার রান করবে না। বিএসইসিতে গত আট মাসে কোনো আইপিও পেন্ডিং নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা নেই। এই বাজারে পণ?্য সরবরাহ খুবই বাজে।’
বিএসইসির টাস্কফোর্স নিয়ে ডিবিএ নেতারা বলেন, ‘যাদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, তারা বাস্তবে প্রকৃত অর্থে অভিজ্ঞতাহীন। তারা আবার করেছে ফোকাস গ্রুপ। যারা ব্রোকার কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই মতামত দিয়েছে। অথচ তাদের যোগ?্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।’ তারা বলেন, ‘সমন্বয়হীন আয়কর দুনিয়ার কোথাও নেই। মুনাফা করলে সরকার আয়কর পাওয়ার অধিকারী। আবার লোকসান করলে আয়কর না দেয়া ব?্যবসায়ীর অধিকার। কিন্তু ১৫ বছর ধরে লোকসান করেও আয়কর দিয়ে আসছে ব্রোকাররা। এটা একপ্রকার জুলুম।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘ক্যাপিটাল মার্কেট দৈন্যদশা চলছে। ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী থেকে ১২ লাখে নেমেছে। সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট পাঁচ লাখও নেই।’ অনেকে বলেন, ‘বাজারে ভলিউম বাড়ে না, ভালো কোম্পানি না থাকলে ভলিউম বাড়বে না। গত ১০ বছরে গ্রোথ কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি। যে আইপিওগুলো এসেছে সবই দুর্বল কোম্পানির। আজ বাজারে টার্নওভার নেই, ভলিউম নেই, সব জায়গায় রিফর্ম দরকার আছে। তবে সবার আগে বাজারে টার্নওভার লাগবে, ৪০০-৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারে বাজার ঘুরপাক খাচ্ছে, এটা দিয়ে বাজার চলবে না।’