Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 1:27 pm

বাড়ি ফিরছেন খান ইউনিসের বাসিন্দারা

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজার দক্ষিণাঞ্চল থেকে হঠাৎ সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এররে খান ইউনিসে ফিরতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খবর: আল জাজিরা।

তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, গাজায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাহিনী থাকবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, সৈন্যদের ভবিষ্যতের অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণাকে কৌশলগত হিসাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শেষের দিকে চলে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। খান ইউনিসে মাত্র একটি ব্রিগেড রেখে বাকি সব সৈন্য ফিরিয়ে নিয়েছে তেল আবিব। কিন্তু হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্যে ছয় মাস ধরে ফিলিস্তিনি উপত্যকায় তাণ্ডব চালানো ইসরায়েল হঠাৎ এভাবে পিছু হটল কেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় সৈন্যসংখ্যা কমিয়ে আনছিল ইসরায়েল। উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় রোধে ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর চাপ ক্রমে বাড়ছিল। হামাসকে নির্মূলে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে ইসরায়েল। কিন্তু সাম্প্রতিক সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনায় ওই অভিযান পিছিয়ে যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কয়েক মাস ধরে খান ইউনিসে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। খান ইউনিস শহর এবং এর আশপাশের একটি বড় অংশ ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। রাফায় অবস্থান করছেন এমন এক ব্যক্তি বলেন, আমার এক প্রতিবেশী খান ইউনিসে তার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। ফলে আমরাও ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

এদিকে শিগগির কায়রোয় শুরু হতে চলেছে যুদ্ধবিরতির নতুন আলোচনা। এই আলোচনায় অংশ নেবেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ ও শিন বেটের প্রধানরা।

আলোচনায় মধ্যস্থতার জন্য এরই মধ্যে মিসরীয় রাজধানীতে পৌঁছেছেন মার্কিন তদন্ত সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক উইলিয়াম বার্ন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। এ অবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  তিনি বলেন, জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।

তবে যুদ্ধবিরতির জন্য যে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ ইসরায়েলের ওপর নয়, হামাসের ওপর যাওয়া উচিত। তার দাবি, হামাসের জন্যই ইসরায়েল নিজেদের অবস্থান কঠোর করতে বাধ্য হচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল চুক্তির জন্য প্রস্তুত, আত্মসমর্পণের জন্য নয়।