নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৮ অক্টোবর বিএনপির ‘মহাসমাবেশের’ দিন রাজপথ আওয়ামী লীগেরই দখলে থাকবে দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, তারা কোনো চাপ অনুভব করছেন না। গতকাল রোববার সচিবালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সমগ্র’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উšে§াচন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে আপনারা চাপ অনুভব করছেন কি নাÑএ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মহাসমাবেশ, ছোট সমাবেশ, মাঝারি সমাবেশ, বিএনপির হাঁটা কর্মসূচি, দৌড় কর্মসূচি, বসা কর্মসূচি, ভবিষ্যতে হয়তো হামাগুড়ি কর্মসূচিÑএগুলো নিয়ে আমরা কখনোই চাপ অনুভব করিনি। আমরা রাজপথের দল, আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব। ২৮ তারিখে রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
‘স্বাধীনতার স্বপ্ন ধুলায় মিশে গেছে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে’ বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য রেখেছেন, সে বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগ নেতা।
তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব আসলে কি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন? এটি তার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন। কারণ, তিনি কয়েক মাস আগে বলেছিলেন পাকিস্তানই ভালো ছিল। যিনি পাকিস্তানই ভালো ছিলেন বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন কিনা সেটি তো বিরাট একটা প্রশ্ন।’
‘তার (মির্জা ফখরুল) বাবা পাকিস্তান সমর্থক একজন মানুষ ছিলেন, এটি দিবালোকের মতো সত্য। সত্যকে তো কেউ অস্বীকার করতে পারে না। তার বক্তব্য বলে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নই দেখেননি। যারা বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেনি বরং যারা পাকিস্তানের পক্ষে অবলম্বন করেছিল। সেইসব লোকের সন্নিবেশ ঘটিয়ে বিএনপি গঠিত হয়েছিল।’
মির্জা ফখরুলরা যেসব কথা বলেন, তা নিজেরা বিশ্বাস করেন না মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব সূচকে আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। যখন দেশকে নিয়ে সবাই প্রশংসা করে, উনি তখন হতাশ। কারণ উনি পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন।’
‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে জিয়ার পুরো ভূমিকা আসেনি’
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে জিয়াউর রহমানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে বিএনপির এক নেতার অভিযোগ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে একটি বায়োপিক। বঙ্গবন্ধু কীভাবে খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হলেন এই ছবিতে সেটি উঠে এসেছে। এই ছবির দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। বিদেশ থেকে আমি প্রতিদিন ফোন ও মেসেজ পাই, কখন তারা ছবিটা দেখতে পাবেন। কবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে রিলিজ হবে।’
‘যখন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া তখন স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির একটু গাত্রদাহ হচ্ছে হয়তো। তাদের দু-একজন কথা বলেছেন, একটা লিগ্যাল নোটিশও নাকি দেয়া হয়েছে। যেগুলো ঐতিহাসিক সত্য সে ঘটনাগুলোই এখানে উঠে এসেছে।’
বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা খুনিরাই স্বীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন হাছান। তিনি বলেন, ‘সেই রেকর্ড আছে, সেটা আপনারা দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আছে। সাধারণ আদালতে এই মামলার বিচার হয়েছে। খুনি এবং সাক্ষীরা সবাই জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। ছবিতে সেই বিষয়টি পুরো আসেনি। বিএনপি যদি বলে থাকে জিয়াউর রহমানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, সেটা সঠিক। কারণ, উনি যে কী পরিমাণ বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ছবিতে সেটা পুরো আসেনি। আমি যদি পরিচালক হতাম তবে আরও একটু বেশি করে দেখাতাম। কারণ ইতিহাসটা জানা প্রয়োজন।’