পাঠকের চিঠি

বিজয়ের মাসে জাগ্রত হোক সত্যিকারের চেতনাবোধ

দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। দেশের প্রতি নাগরিকের সব দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা, আইনের অনুশাসন, নিয়ম-কানুন মেনে চলাকে প্রকৃত অর্থে দেশপ্রেম বলা হয়। নাগরিক তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করলে হ্রাস পাবে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়সহ সব ধরনের জাতীয় সমস্যাগুলো। মাতৃভূমি প্রতিটি নাগরিকের কাছে মায়ের সমতুল্য, মা যেমন তার সন্তানকে আগলে রাখে সকল সমস্যা, অনুযোগ, অভিযোগ নিয়ে, নাগরিকও তেমনি তার রাষ্ট্রের সকল সুবিধা-অসুবিধা মেনে নিয়ে স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধ, ভালোবাসা, দেশপ্রেমকে জাগ্রত রাখে।

মা এবং মাতৃভূমি একই সুতায় বাঁধায়। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার অর্থ শুধু দেশকে অনিয়ম, অপশক্তি, দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখা না, দেশের পরিবেশকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। দেশের বায়ুকে দূষণ মুক্ত রাখা, মাটি, পানিকেও দূষণ মুক্ত রাখা এবং খনিজ সম্পদেরও যথাযথ ব্যবহার করতে পারাটাও দেশপ্রেমের অন্তর্ভুক্ত। মাটি, মানুষ, বায়ু, পানি সকলেই যেন একই সুতায় বাঁধা এবং একসঙ্গে দেশপ্রেমের আলো ছড়িয়ে দিতে এগুলো সংরক্ষণের বিকল্প নেই।

নাগরিকের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো, রাষ্ট্রীয় সকল কাজ বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। হত্যা-লুণ্ঠন, ধর্ষণ, হানাহানি, রাহাজানি, দুর্নীতিসহ সকল অপশক্তিকে রোধকরণে প্রয়োজন নাগরিকদের দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। অন্যথায় সমাজ হবে কুলষিত, অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং ঘোর অমানিশা আঁধার। তবে সত্যিই কি আমাদের মধ্যে দেশপ্রেমের নমুনা লক্ষ্যণীয়? দু-একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

প্রথমত, সম্প্রতি দেশে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে, এর জন্য যেমন রয়েছে মজুদের অপর্যাপ্ততা, ঠিক তদ্রƒপ রয়েছে কিছু অসুধা ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ রেখে কৃত্রিক সংকট তৈরি করা। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের মাঝে বিজয়ের মাসে জাগ্রত হোক দেশপ্রেম এবং রাষ্ট্র এক বৃহৎ কৃত্রিম সংকট থেকে মুক্তি পাক।

দ্বিতীয়ত, এ দেশের বিজয়ে নারীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম, কিন্তু নারীরা তাদের যথাযথ স্বাধীনতা পাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে পেজে ধর্ষণের খবর চোখে পড়ে, আমাদের সামনে বেশ কিছু নাম বেশ পরিচিত। যেমনÑকুমিল্লার তনু, ফেনীর নুসরাত। এছাড়া যৌতুকের মতো ঘৃণিত কাজের প্রচলন বহু আগে থেকেই প্রচলিত, সেখানেই নারীরা হারাচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। এসব কাজ নাগরিকের নৈতিকতার অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলে এবং একই সঙ্গে দেশপ্রেমের অনুপস্থিতিকেও। কিন্তু দেশপ্রেমের অনুপস্থিতি কিংবা নৈতিকতার অবক্ষয়ের জন্য ব্যক্তি নাকি রাষ্ট্র দায়ী? এ প্রশ্ন সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

সবকিছু মেনে মহান বিজয়ের মাসে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া উচিত এই মর্মে, নাগরিক তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ যথাযথভাবে পালন করবে। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, রাষ্ট্র ও সরকারের আনুগত্য স্বীকার  করবে, প্রতিবেশীর দুঃখে ব্যথিত হবে, পারস্পরিক সহমর্মিতা নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে। দেশের প্রকৃতিকে সংরক্ষণে সকলের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতিকে সম্মিলিতভাবে রুখে দিতে হবে, এইগুলো হলো দেশপ্রেমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এভাবে বিজয়ের মাসে প্রাণে প্রাণে প্রতিটি ব্যক্তির মনে জাগ্রত হোক দেশপ্রেম এবং গড়ে উঠুক সবার সম্প্রীতি; কেননা এদেশ আমার, আপনার, আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা।

 আরিফ হোসাইন

শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়