‘যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: শিক্ষক-গভর্নিং বডির সদস্যদের পকেটে পাঁচ কোটি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে বেশ প্রাসঙ্গিক। শিক্ষাবাণিজ্য কতটা সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে, এটি তারই উদাহরণ।
প্রতিবেদনে তহবিল তসরুপের কতকগুলো তথ্য এসেছে। যেমন শিক্ষকদের ভবিষ্য তহবিলের ১১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা তহবিলের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, কাল্পনিক ঋণ হিসাবের বিপরীতে ভুয়া ঋণ পরিশোধের নামে ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ভাউচার ছাড়াই খরচ দেখিয়ে ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক চার্জশিটে এই অভিযোগ এনেছে। ২০১৯ সালে উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ২০ মার্চ সময়ে দৈনিক আদায় রেজিস্টার অনুযায়ী বিভিন্ন তারিখে মোট ছয় কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৫ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু জমা-খরচ খাতায় ওই সময়ে ছয় কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ৭৯৮ টাকা জমা দেখানো হয়। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে আদায় করা ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪ টাকা কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
অর্থ কার না দরকার। এটি অর্জন করতে গিয়ে মানুষ কত ধরনের ফন্দি-ফিকির করে, তার ইয়ত্তা নেই। অর্থ উপার্জনের ধরন থেকেই মানুষের সততা ও নৈতিকতা বোঝা যায়। শিক্ষকরাও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ; কিন্তু তারা মানুষ গড়ার কারিগর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদবকেতা, শুদ্ধাচার ও উন্নত জীবনাচার শেখাবেন। শিক্ষকের উপস্থাপিত আদর্শ দেখে অনুপ্রণিত হবে শিক্ষার্থীরা। অথচ যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানছে শিক্ষকদের অপকীর্তির খবর। এখন তারা বলবে, তাদের প্রতিষ্ঠান নামেই ‘আইডিয়াল’!
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্তরা বলছেন, অন্যদের নাম নেই কেন? প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে হয়েই তাদের নাম দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। কোনো শিক্ষক ব্যাংকের টাকা উত্তোলন করতে পারেন না, তাই তার সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রশ্নই আসে না। কী সুন্দর যুক্তি! গভর্নিং বডির সদস্য বেশিসংখ্যক করা হয়; এজন্য কেউ না কেউ সত্য উšে§াচন করে দেবেন। কারও মাধ্যমে অপকীর্তি ফাঁস হবেই। এক্ষেত্রে কি তা হয়েছে? যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা চিহ্নিত হোক এবং আইনের আওয়ায় আসুক। ব্যাংকের টাকা ওঠাতে পারেন সভাপতি ও সেক্রেটারি। তার অর্থ এই নয় যে, অন্যদের যোগসাজশ নেই। গভর্নিংবডির সদস্যরা সভা করেছেন কি না, সভার আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে টাকা ওঠানোর বিষয় ছিল কি না, সভায় কতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন, তাদের উপসিস্থিতসূচক স্বাক্ষর আছে কি না প্রভৃতি অনেকে বিষয় বিবেচনায় আসবে। যৌথ ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থ উত্তোলনে দুই বা তিনজনের স্বাক্ষর লাগে। এর অর্থ এই নয়, অন্যরা তা জানেন না। আর সব সদস্য তো চেকবইয়ে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। যেহেতু এই আদালতে গড়িয়েছে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আমরা আশা করি, বিচারে প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত হবে এবং তারা যথোপযুক্ত শাস্তি পাবে। আমাদের বিবেকবোধ নেই, আইনও অপরাধীদের শাস্তি দেবে না, এমন যেন না হয়। উন্নত নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।