বিদ্যুৎ খাতে ভাড়া দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধে ব্যবস্থা নিন

দেশে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে আমদানি খরচ বেড়েছে। এতে ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। আবার রপ্তানি বাড়লেও তা আমদানির তুলনায় কম। প্রবাসী-আয়ও বাড়েনি, বরং কমেছে। বিভিন্ন কারণে দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান মুদ্রাটির দাম। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলারের দাম ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও ঢাকার মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলার ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০৪ টাকায় মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে।

ডলারের দাম নিয়ে যখন দেশে একপ্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি, তখন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে ডলারে। এ খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। খবরে জানা যায়, বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত মেটাতে ২০০৯ সাল থেকে পরবর্তী কয়েক বছর কয়েকটি কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র্র স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়। তবে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। আবার এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জও পরিশোধ করতে হয় ডলারে। সাম্প্রতিক ডলার সংকটের কারণে এখন তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় তথা সরকারের। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে পিডিবি জানায়, ডলারের বিনিময় হার এক টাকা বাড়লে পিডিবির লোকসান বাড়ে বছরে ২৩০ কোটি টাকা। তাই লোকসান কমাতে যেসব কোম্পানির বৈদেশিক ঋণ আছে, সেগুলোর ভাড়া ডলারে পরিশোধ করার যেতে পারে। কারণ ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। যেসব কোম্পানির বৈদেশিক ঋণ নেই তাদের ক্ষেত্রে চুক্তি সংশোধন করা গেলে ডলার নয়, সরাসরি দেশীয় মুদ্রায় ভাড়া নির্ধারণ ও পরিশোধ করা যেতে পারে।

আমরা মনে করি, ‘যেতে পারে’ নয়, বরং তা করা উচিত। আপাতত এটিই প্রথম বিবেচনায় নিতে হবে। কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের বোঝা বাড়াচ্ছে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’। বছরের অধিকাংশ সময় অলস বসিয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেবট (বিডব্লিউজিইডি) জানায়, বিশ্বব্যাপী বিশেষ প্রয়োজনে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস রাখা হচ্ছে আদর্শ নিয়মে। কিন্তু বাংলাদেশে অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র  রয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এসবের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে গিয়েই লোকসান হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি-বেসরকারি ৯০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গত বছরের জুলাই থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে প্রায় ১২ হাজার ২৮ কোটি টাকা। যেহেতু আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশ অব্যবহƒত থাকে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে ভাড়া পরিশোধ করার বিলাসিতাও ত্যাগ করতে হবে। আর যত দ্রুত সম্ভব ডলার নয়, টাকায় ভাড়া পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বর্তমান কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ভাড়া পুনর্নির্ধারণে দরকষাকষি করতে হবে, কীভাবে কমিয়ে আনা যায়।