বিশেষ ঋণে পাঁচ শতাংশ সুদ চায় বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ দুই শতাংশ সুদ দিয়ে বিশ্বব্যাংক থেকে নমনীয় বা সহজ শর্তের ঋণ (কনসেশনাল) পেয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ চাইলে কঠিন শর্তের ঋণ (নন-কনসেশনাল) প্রদানে আগ্রহী বিশ্বব্যাংক। এর জন্য পাঁচ শতাংশ সুদ চায় আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়েক সেক। এ সময় বাংলাদেশকে পাঁচ শতাংশ সুদে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব দেন বিশ্বব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর।

এ বিষয়ে সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের এখনও কনসেশনাল রেটে লোন দিচ্ছে। তারা বলেছে, তোমরা যদি চাও তাহলে নন-কনসেশনাল রেটে আরও ঋণ নিতে পার। এর জন্য তারা পাঁচ শতাংশ চার্জ করবে। সেটা অনেক বেশি। আমরা তো প্রায় দুই শতাংশ দিয়ে পেয়ে থাকি। তবে গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেলে, সেটা তো আর পাওয়া যাবে না। সেটাও একটা বিষয়।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) হলো কম সুদে নমনীয় ঋণ প্রদান-বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, যার সবচেয়ে বড় গ্রাহক বাংলাদেশ। আইডিএ ঋণের সার্ভিস চার্জ শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সুদহার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। দুটি মিলিয়ে দুই শতাংশ হয়। অ-উত্তোলিত অর্থায়ন স্থিতির ওপর বছরে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি দিতে হয়। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড বা কিস্তি অব্যাহতি পাঁচ বছর। আর পরিশোধ করতে হবে ৩০ বছরে।

এছাড়া আলোচনাকালে বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট রিজার্ভের সমস্যাটি সাময়িক এবং বাংলাদেশ তা কাটিয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক।

পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি ও ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ-বিষয়ক ডিরেক্টর পিটারিস ইউএসটিউবসের সঙ্গে বৈঠক করেন সালমান এফ রহমান।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তারা রিনিউঅ্যাবল এনার্জির ওপর কাজ করতে চাচ্ছে। রিজিওনাল অর্থাৎ ভুটান, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ মিলে রিনিউঅ্যাবল এনার্জি নিয়ে শেয়ার করতে পারি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এ বিষয়ে তাদের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাছে নলেজ আছে, সেটা আমরা চাইলে কাজে লাগাতে পারি।