নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রথমবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গে চলাচল করে পরীক্ষামূলক ট্রেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেলপথের অংশ। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের ৮২ কিলোমিটার রেলপথ ইতোমধ্যে ট্রেন চলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। আনা হয়েছে নতুন ৮ বগির সংযুক্ত লোকোমোটিভ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি যাত্রা করে। দুপুর ১২টি ১৭ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায়। ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটে ৮২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় ট্রেনটি।
মুন্সীগঞ্জে মাওয়া প্রান্তে ১১.২০-এর দিকে পরীক্ষামূলক ট্রেনটি পাড়ি দেয়। পরীক্ষামূলক ট্রেনে ছিলেন আমন্ত্রিত সাংবাদিক ও রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সফল ট্রেন চলাচল করেছে গত ৪ এপ্রিল। ৫ মাসের মাথায় এবার পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা থেকে ভাঙ্গা অংশের ৮২ কিলোমিটার প্রথমবারের মতো চলল পরীক্ষামূলক ট্রেন।
এদিকে সড়কপথের পর রেল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে উচ্ছ্বসিত সবাই। মাওয়া স্টেশনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, পরীক্ষামূলক রেল চলাচলের মাধ্যমে এই রেলপথ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। রেল চলাচলের মাধ্যমে এ পথে যাতায়াত সহজতর হবে।
প্রকল্পের প্রকৌশলী সাদমান শাহরিয়ার জানান, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা অংশের ৮২ কিলোমিটার পথে মাওয়া, পদ্মা, ভাঙাসহ মোট ১০টি স্টেশন রয়েছে। সবগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ অংশের নিমতলী, শ্রীনগর ও মাওয়ায় রয়েছে তিনটি আধুনিক স্টেশন। এগুলোর অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ জামিউল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রেল চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে ভায়াডাক্ট। পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য আনা হয়েছে নতুন লোকোমোটিভ।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ জানান, ঢাকা থেকে মাওয়ার অংশে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, ঢাকার কমলাপুর থেকে রওনা হয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেনটি প্রথমে মাওয়া স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে পৌঁছায় ট্রেনটি। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সাংবাদিকদের রেলমন্ত্রীর ব্রিফিং করেন। পরে ভাঙ্গা থেকে সরাসরি ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে ফিরে যায়।
পরীক্ষামূলক ট্রেনটিতে আটটি বগি রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১০০টি বগি বিদেশ থেকে আনার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ চালু হবে আগামী বছর। পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল সফল হলে আগামী ১০ অক্টোবর যাত্রী চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের রেলপথ। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চীনের অর্থায়নে জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ (সিআরইসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ২৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। বাকি অর্থ ব্যয় করছে বাংলাদেশ সরকার।