টেলিভিশনে খেলা চলছে। ব্যাংক কর্মকর্তা মনজুরুল বিছানায় শুয়ে খেলা দেখছে। দুই মগ কফি নিয়ে, ছোট ভাই জহির রুমের মধ্যে ঢুকল এবং একটা মগ বড় ভাইয়ের হাতে দিল।
জহিরঃ ভাইয়া, যারা সরকারি চাকরি করে না, তারা তো চাকরির শেষে পেনশন পায় না।
মনজুরুলঃ না, পায় না। তোর পেনশন নিয়ে চিন্তা কিসের?
জহিরঃ আচ্ছা, পেনশনের মত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা পাবার কোন কি ব্যবস্থা আছে?
মনজুরুলঃ থাকবে না কেন, আছে তো।
জহিরঃ সেটা কেমন করে?
মনজুরুলঃ অবসর জীবনের আর্থিক প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখেই জীবন বীমা কর্পোরেশনের রয়েছে ব্যক্তিগত পেনশন বীমা পলিসি। যে কোন পেশায় নিয়োজিত মানুষ এই পলিসি নিতে পারেন।
জহিরঃ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
মনজুরুলঃ মনে কর, ৩৫ বছর বয়স্ক কোন ব্যক্তি ৫৭ বছর বয়স পূর্তির পর থেকে মাসিক ৫,০০০/- টাকা পেনশনের জন্য একটি পেনশন বীমা পলিসি গ্রহণ করলেন। এক্ষেত্রে মাসিক ১০০/- টাকার পেনসনের জন্য এক বছরের প্রিমিয়াম ১৮৪.২০ টাকা। তার মানে হচ্ছে, মাসিক ৫,০০০/- টাকার জন্য এক বছরের প্রিমিয়াম ১৮৪.২০ x ৫০ বা ৯,২১০.০০ টাকা অর্থাৎ ৫৭ বছর হওয়া পূর্ব সময় অবধি প্রতি বছরে প্রিমিয়াম দিবেন ৯,২১০/= টাকা। মেয়াদ পূর্তি অর্থাৎ ৫৭ বছর পর তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন মাসিক ৫০০০/= টাকা করে পেনশন পাবেন, যা তার ব্যাংক হিসাবে পৌছে যাবে।
আবার কেউ যদি মাসিক ১০,০০০ টাকা করে পেনশন পেতে চান, তাহলে একইভাবে প্রতি বছর ১৮,৪২০ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে।
জহিরঃ আচ্ছা, পেনশন পাওয়া শুরু হওয়ার এক বছর বা দুই বছর পর যদি বীমা গ্রহীতা মারা যান, তাহলে কি হবে? তিনি তো বেশিদিন পেনশনের টাকা পেলেন না।
মনজুরুলঃ ভালো প্রশ্ন করেছিস, পেনশন প্রদান শুরুর ১০ (দশ) বছরের মধ্যে বীমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে, দশ বছরের বাকী সময়ের জন্য পেনশনভোগীর নমিনী পেনশনের টাকা পাবেন।
জহিরঃ এটা তো খুব ভালো প্রকল্প।
মনজুরুলঃ ভালো তো অবশ্যই। তবে আমাদের অনেকেই বিষয়টা জানে না। জীবন বীমার কিন্তু আরো একটা সুবিধা আছে?
জহিরঃ কী সুবিধা?
মনজুরুলঃ জীবন বীমার প্রিমিয়ামের উপর আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়। অর্থাৎ মাসিক কিংবা বাৎসরিক যে প্রিমিয়াম প্রদান করে থাকি, তার উপর আয়কর রেয়াত সুবিধা রয়েছে।
জহিরঃ বাহ! এটাও তো ভালো খবর। আচ্ছা, মেয়াদ শেষে প্রতি মাসে পেনশনের টাকা পেতে কি ঝামেলা হয় ?
মনজুরুলঃ ঝামেলা হবে কেনো? জীবন বীমা কর্পোরেশনের প্রকল্প। আর কোন বীমা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যদি কারো নেতিবাচক ধারণা বা অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তবে ব্যর্থতা নির্দিষ্ট সেই প্রতিষ্ঠানের, জীবন বীমার নয়।
জহিরঃ ঠিক বলেছো, ভাইয়া। তুমি খেলা দেখো। আমি আমার রুমে গেলাম।
মনজুরুলঃ আচ্ছা, যাবার সময় মগটা নিয়ে যা।
লেখকঃ রিয়াজুল হক, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।