ব্যক্তিখাতের বৈদেশিক ঋণে নজরদারি বাড়ানো হোক

বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বেশ চাপে রয়েছে বলে বারবার উল্লেখ করে চলেছেন বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা। এ চাপ আরও বেশি ঘনীভূত করেছে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি। আর সামষ্টিক অর্থনীতি যে চাপে রয়েছে, তা সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণাতেও প্রতিভাত হয়েছে। বাজেটে আমদানি কমানো ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য চাপের মধ্যে থাকে, তখন সরকার নানা ধরনের সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সরকারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বাংলাদেশও সে পথেই রয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

এমন চাপের পরিস্থিতির লক্ষণগুলো স্পষ্ট হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে। আমদানি ব্যয় মেটানোর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ফলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা রাখার (এলসি মার্জিন) নির্দেশনা জারি করেছে। তারপরও নিয়মিত হারে যেসব বৈদেশিক দায়দেনা পরিশোধ করতে হয়, সেগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট সময় অন্তর বড় অঙ্কের ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। চূড়ান্তভাবে যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে রিজার্ভের ওপর। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ দায়দেনায় নতুন মাত্রা দিয়েছে ব্যক্তি খাতের বৈদেশিক ঋণ।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ব্যক্তিখাতে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ২৩ বিলিয়ন ডলার: বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ এখন গলার কাঁটা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বিদেশি ঋণের সুদ দেশি ঋণের তুলনায় কম হওয়ায় গত কয়েক বছরে দেশের বেশকিছু ভালো মানের কোম্পানি বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে। এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয় ডলারে। ফলে তা চূড়ান্তভাবে রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলে। তাছাড়া যে কম সুদের সুবিধা পাওয়ার আশায় এসব কোম্পানি বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের সে আশা আর পূরণ হচ্ছে না। কাজেই সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে এটি এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

দেশীয় ঋণের সুদ একটু বেশি হলেও দেশীয় উৎস থেকে ঋণ নেয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন। কেননা দেশীয় ঋণের যে সুদ পরিশোদ করা হয়, সে অর্থটাও দেশেই থাকে। ফলে তার নানাভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান দেশীয় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তারা সুদ মওকুফসহ নানা ধরনের সুযোগও পেয়ে থাকে। কিন্তু বিদেশি ঋণের সুদ কম হলেও শর্ত বেশ কঠিন। এ ঋণ পরিশোধের ব্যর্থতা নানা ধরনের চাপ সৃষ্ট করে। তাই বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের ইচ্ছেমতো কোনো বাছবিচার ছাড়া বিদেশি ঋণ নিতে না পারে, সে বিষয়ে এখন নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি ভেবে দেখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।