Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 3:58 pm

ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সংঘাত কাম্য নয়

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, হকার, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি তথ্য ছড়ানো হয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। সেগুলোর একটি হচ্ছে, ‘পণ্যের দামে বনাবনি না হওয়ায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিউমার্কেটের দোকানিদের ওপর হামলা করেছেন।’ আরেকটি হচ্ছে, ‘খাবারের বিল না দেয়ায় শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা।’ তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃত তথ্য হলো নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানের কর্মচারীদের মধ্যকার বিবাদ ছড়িয়ে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কর্মচারীদের একপক্ষকে সমর্থন দিতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটের ৪ নম্বর প্রবেশপথে ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল নামে দুটি ফাস্টফুডের দোকানে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ইফতারের সময় হঠাৎ রাস্তায় টেবিল বসিয়ে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করতে বসাকে কেন্দ্র করে দুই দোকানের কর্মচারীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। সিসিটিভি ভিডিও চিত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম বলছে, রাত ১১টায় বিবদমান একজনের সমর্থক কয়েক যুবক মার্কেটে আসেন। হাতে রামদা নিয়ে ওই যুবকরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে মার্কেট থেকে বের করে দেন। মার্কেট থেকে পালিয়ে গিয়ে বিতাড়িত পক্ষ ঢাকা কলেজের কয়েক শিক্ষার্থীকে নিয়ে এসে মার্কেটে হামলা চালান। এ অবস্থায় গেট বন্ধ করে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এরপরই মূলত দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়।

অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন, খাওয়ার বিল কম দেয়া নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষার্থীরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর এর প্রতিবাদ করতে গেলে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন তারা। একপক্ষের বক্তব্য শুনে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান আশা করা যায় না। তার আগে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। কভিডকালে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারা একটু সহনশীল হলে সংঘাত এড়ানো যেত। ঈদের কেনাকাটায় এখন অনেক ক্রেতাই নিউমার্কেট যাওয়ার সাহস পাবেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কথা উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ নিউমার্কেটের সামনে থেকে ছাত্রদের লক্ষ করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তখন দোকানের কর্মীরাও পুলিশের পেছনে থেকে ইট নিক্ষেপ করেন। নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য হলেও তাদের নিবৃত্ত করতে পারত পুলিশ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ ছাত্রদের টিয়ারশেল মারলেও দোকানকর্মীদের সড়ক থেকে একবারও সরিয়ে দেয়নি। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। অথচ তারা কোনো পক্ষের হয়ে বিরোধে জড়াননি।

ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী সংঘাত কাম্য নয়। আমরা আশা করি, হামলার প্রকৃত কারণ বের করতে সরকারের সংস্থাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে। নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ এই প্রথম নয়। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।