ব্যাংক আর্থিক ও টেলিযোগাযোগ খাতে দর সংশোধন

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের ১০ পয়েন্ট পতন হলেও লেনদেন বেড়ে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা হয়, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার সার্বিকভাবে ভালো অবস্থানে যেতে না পারায় লেনদেন হাতেগোনা কয়েক দিন হাজার কোটি টাকার ওপরে ওঠে। তাই ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের পর গতকালের লেনদেনই ছিল সর্বোচ্চ। তবে গতকাল ব্যাংক, আর্থিক ও টেলিযোগাযোগ খাতে দর সংশোধন করা হয়। আর ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ খাতে দরপতনের কারণেই সূচকে পতন হয়। ভালো অবস্থানে ছিল বিমা ও জ্বালানি খাত।

তবে বিমা খাত গতকাল ভালো অবস্থানে ছিল। সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ বা ২২১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি বিমা খাতে ৬৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় ৭০ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে। প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এসব শেয়ারের দর ৯ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের ১৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে তিন টাকা ৮০ পয়সা। ব্যাংক খাতে ১৬ শতাংশ লেনদেন হলেও এ খাতের ৭৭ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দর কমে ৭০ পয়সা।  ঢাকা ব্যাংকের ১৯ কোটি ও আইএফআইসি ব্যাংকের প্রায় ১৬ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয়। আর্থিক খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৬১ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের সাড়ে ২৭ কোটি টাকা ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের সাড়ে ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতের ৫৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ওয়েস্টার্ন মেরিনের প্রায় ১৮ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে। কেডিএস এক্সেসরিজের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খাতে ৬৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ১৬ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। সেবা ও আবাসন খাতের ইস্টার্ন হাউজিং ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। পাট, কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।