Print Date & Time : 29 August 2025 Friday 1:15 pm

ব্যাংক খাতে ভর করে বাজার গতিশীল

রুবাইয়াত রিক্তা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ভর করে গতকাল চাঙা হয়ে উঠে পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন বেড়েছে ২২০ কোটি টাকা। ডিএসইএক্স সূচক, শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস এবং বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে ডিএসই৩০ সূচক এবং ডিএসইর বাজার মূলধন নতুন উচ্চতায় ওঠার রেকর্ড গড়ে। অবশ্য সূচক ও বাজার মূলধন বাড়লেই এ রেকর্ডও হবে প্রতিনিয়ত। ডিএসইর মোট লেনদেনের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫২ শতাংশ ছিল ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দখলে। ব্যাংক খাতে এককভাবে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা বা ৩৭ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দর বেড়েছে। কমেছে একমাত্র ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দর। অপরিবর্তিত ছিল তিনটি। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে তিন ব্যাংক। এর মধ্যে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে শীর্ষে ছিল রূপালী ব্যাংক। পূবালী ও আল-আরাফাহ্ ছিল এ তালিকায়। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ার লেনদেনেও ব্যাংক খাতের একক প্রাধান্য ছিল। আর্থিক খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ বা ১৮০ কোটি টাকা। এ খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ছয়টির, অপরিবর্তিত ছিল একটি। এ খাতের ফাস ফাইন্যান্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাত এবং যোগাযোগ খাত ইতিবাচক থাকলেও বাকি খাতগুলোতে দর সংশোধন হয়।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সূচক ইতিবাচক রাখতে ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, রূপালী, পূবালী ও প্রাইম ব্যাংক। গ্রামীণফোনের কারণে সূচকের বড় উত্থান হয়। কারণ গতকাল জিপির দর বেড়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা। লেনদেনে নেতৃত্ব দিয়েছে একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লংকাবাংলার প্রায় ৬৯ কোটি টাকার, আল-আরাফাহ্ ব্যাংক ৪১ কোটি, সিটি ব্যাংক ৩৮ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ৩৬ কোটি, প্রাইম ব্যাংক ২৭ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মা ২৫ কোটি, জিপি সাড়ে ২৪ কোটি, এনবিএল ২৪ কোটি এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ২২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

আমাদের পুঁজিবাজার ক্রমেই শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে। বাড়ছে সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পাশাপাশি বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে সচেতনতা। আর পিই রেশিও বিবেচনায় ব্যাংক খাত সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থানে রয়েছে। কারণ এ খাতের পিই এখনও ১০-এর মধ্যে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পিই রেশিও ১৫’র মধ্যে থাকলে সে খাত বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থানে থাকে। তাই বিনিয়োগকারীরা ঘুরেফিরে ব্যাংক খাতেই বিনিয়োগ করছেন। এ হিসেবে জ্বালানি ও বিমা খাতের পিই ১৩ ও ১৪। এছাড়া অন্যান্য খাতের যেসব কোম্পানির শেয়ারদর এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বেশ নিচে আছে, সেগুলো বিনিয়োগ উপযোগী। বিনিয়োগকারীরা ভেবেচিন্তে সেসব কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করতে পারেন। তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।