নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন হাজারো মানুষ। গতকাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, বামনী নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে চর এলাহী ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া এলাকায় নদীর তীরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি, চর এলাহী ইউনিয়নে বামনী নদীর ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন, নদীতে ক্লোজার (বাঁধ) নির্মাণ ও রেগুলেটর চালু করতে হবে। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন স্থানীয় যুবদল, জামায়াত নেতারা। বক্তারা বলেন, কোম্পানীগঞ্জের বামনী নদীর ভাঙন প্রতিরোধে চর এলাহী এলাকায় একটি রেগুলেটর নির্মাণ এবং বিকল্প একটি খাল খনন করা হয় কয়েক বছর আগে। কথা ছিল রেগুলেটর নির্মাণকাজ শেষ হলে বামনী নদীতে একটি ক্লোজার (বাঁধ) নির্মাণ করা হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ক্লোজার নির্মাণ করা হচ্ছে না। ফলে চাপরাশি খালের দুই পাড়ে ভাঙনে এরই মধ্যে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। বর্তমানে বামনী নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে আগামী বর্ষায় নদীতীরবর্তী অনেক বাড়িঘর, ফসলি জমি, মাছের খামার নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বামনী নদীর ক্লোজার (বাঁধ) নির্মাণের একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তারা চেষ্টা করছেন, রেগুলেটরটি খুলে দেয়ার। তা করা গেলে নদীর ভাঙন কমে যাবে।
বর্ষার আগেই যথাসম্ভব দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বৃহত্তর নোয়াখালীতে দীর্ঘমেয়াদি বন্যাও জলাবদ্ধতায় নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন মানুষ। ওই সময়ে উজান থেকে আসা বন্যার পানি এবং মুসাপুরে ক্লোজার ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বহু গ্রাম, জনপদ, ফসলের জমি, গবাদি পশুপাখি হারিয়ে যায় বানের তোড়ে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা, নিঃস্ব হয়। নদীতীরের বাসিন্দদের জন্য ভাঙন নিয়মিত ঘটনা হওয়ায় তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে অভ্যস্ত। কিন্তু নোয়াখালীর মানুষ বড় বেকায়দায় পড়েছেন তখন। পরে দেখা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নদীর পাড়ে নিজ নামে একাধিক ‘নগর’ গড়ে তুলেছেন। পানি সরে যাওয়ার পথ পায়নি। বামনী নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষ অংশ নিয়েছেন, নেতারা বক্তব্য রেখেছেন। এতে আশা করা যায়, স্বার্থান্ধ কোনো ব্যক্তি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। নদীভাঙনের শিকার মানুষগুলো সবকিছু হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয় অথবা শহরাঞ্চলে ভিড় জমায় জীবন-জীবিকার তাগিদে। গত বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় নদীতীরের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সে কারণেই এবার ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙন তখনই রোধ করা সম্ভব যখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ ভাঙন ঠেকাতে ভূমিকা রাখবে।
নদীভাঙন রোধে পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদীর গতিবিধি ও ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেই প্রত্যাশা।




