Print Date & Time : 1 September 2025 Monday 1:04 am

ভারতের কংগ্রেসে কি গান্ধীযুগের অবসান?

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের পাঁচ রাজ্যে ভোটে হারের পর সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ‘পদত্যাগ’ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর কি কংগ্রেসে আসতে চলেছে, বিরাট রদবদল? গতকাল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি)  বৈঠকে  নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন গান্ধীরা এমন গুঞ্জন ওঠে। কংগ্রেসে হতে পারে গান্ধীযুগের অবসান। খবর: হিন্দুস্তান টাইমস।

পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য নেতারা গান্ধী পরিবার ও তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে দোষারোপ করছেন।

এর আগে দাবি উঠছিল বেশ কয়েক দিন ধরে। তাতেই ঘৃতাহুতি হয়েছে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও মণিপুরের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের শোচনীয় ফলে। পাঞ্জাবে সরকারে ছিল কংগ্রেস। ভোটের কয়েক দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অমরিন্দর সিংহকে বদলে আনা হয় চরণজিৎ সিংহ চন্নীকে। কিন্তু তাতেও ভোটে সুবিধা হয়নি, উল্টো নবীনতম রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির কাছে কার্যত উড়ে গেছে তারা। উত্তরপ্রদেশে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে। গোয়ায়ও সরকার গড়ার ধারেকাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ কংগ্রেস। পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশের পর গান্ধী পরিবারের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেসের নেতারা। চাপ বাড়ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। এই পরিস্থিতিতে শোনা গেল, কার্যকরী সমিতির বৈঠকে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সোনিয়া গান্ধী। পদ ছাড়তে পারেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাও।

২০১৯ সালে লোকসভায় ভরাডুবির দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন রাহুল, তার পর থেকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর ভূমিকায় রয়েছেন সোনিয়া। সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কাকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

এর আগেও একাধিকবার গান্ধীদের ইস্তফা নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। ফলে ইস্তফা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও আদতে ইস্তফার ঘটনা ঘটবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।

২০১৪ সালে কংগ্রেসের বাজে পারফরম্যান্সের পরে সোনিয়া-রাহুল উভয়ই পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। রাহুল গান্ধী ২০১৯ সালে দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকে কংগ্রেস তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারেনি কাউকে। রাহুল গান্ধী নিজে বা গান্ধী পরিবারের কাউকে সভাপতি করার বিরুদ্ধাচারণ করেন। কিন্তু গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত করতে পারেনি কংগ্রেস। সেই থেকে সোনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসাবে কাজ করে চলেছেন।