শেয়ার বিজ ডেস্ক: নেপালের সঙ্গে ভারতের অবাধ বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় নেপাল থেকে ভারতের যেকোনো জায়গায় যে কেউ চা আমদানি করতে পারেন। তবে নিয়ম ভেঙে সেই চা ভারতের দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে বা আলাদাভাবে পাতা হিসেবে বিক্রি করায় বাজারে দার্জিলিং চায়ের বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এই অনিয়ম বন্ধ করতে ভারতে বাণিজ্যবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গত জুনে সরকারকে নানা ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে। কেন্দ্রীয় আইনে নানা বিধির কথা থাকলেও কেন্দ্র কিছুই করছে না বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, টি বোর্ডও যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, নেপালের চায়ের ছাড়পত্রে কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দেশটির চা শিল্পে। খবর: কাঠমান্ডু টাইমস।
ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশটি থেকে নি¤œমানের চা আসছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের চা-শিল্প। তারা সরকারকে ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ ও ১৯৫০ সালের ইন্দো-নেপাল চুক্তি পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
নেপালের চায়ের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত। তাই এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে শিল্পটি হুমকিতে পড়বে বলে উৎপাদকরা আশঙ্কা করছেন। দেশটি ভারতে ৯০ শতাংশ চা-পাতা এবং ৫০ শতাংশ গুড়ো চা বা সিটিসি (ক্রাশ, টিয়ার অ্যান্ড কার্ল) রপ্তানি করে। নেপালের চা-পাতা হিমালায়ান চা নামে পরিচিত, যা স্বাদ ও গন্ধে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং চায়ের মতো। তবে নেপালের চা তুলনামূলক সস্তা। দেশটির উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মতে, তাদের চায়ের দাম দার্জিলিংয়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। দার্জিলিং চা পাতার দাম ৩২০ থেকে ৩৬০ রুপির মধ্যে ওঠানামা করে, যেখানে নেপালের চা পাতার দাম অর্ধেকেরও কম। তাদের চা-পাতা উৎপন্ন হয় উঁচু ভূমিতে। এ পাতা হাতে প্রক্রিয়া করা হয় এবং উচ্চ গুণগতমানসম্পন্ন। আর সিটিসি মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র সমভূমিতে উৎপন্ন হয়।
এ ধরনের চায়ের বেশিরভাগ উৎপন্ন হয় ঝাপা জেলায়। গুণমান, সুবাস ও স্বাদের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের চা-পাতার বেশ কদর রয়েছে।
নেপাল টি প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সুরেশ মিত্তাল বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীদের মতে আমাদের চা নি¤œমানের। কিন্তু ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া আমাদের চাকে উন্নতমানের বলে সনদ দিয়েছে। সর্বোত্তম মান বজায় রেখে আমরা চা রপ্তানি করি। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপন্ন ও প্রক্রিয়া করার পর রপ্তানি করা হয়। সয়াবিন কিংবা সূর্যমুখী তেলের মতো আমদানি ও শোধন করে রপ্তানি করি না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কয়েকবার ভারতে চায়ের জাহাজ চালান স্থগিত করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেই বেশিরভাগ চালান স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় আট মাস আগে ৪০ হাজার টন চায়ের জাহাজ চালান কয়েক সপ্তাহ স্থগিত রাখে ভারতের কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের জুনে নেপালের চা ও এলাচ বহনকারী ২০টির বেশি ট্রাক মেচি নদীর কাছে আটকে রাখা হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে কাকরভিটা ইমিগ্রেশনে আটকে দেয়া হয় চা রপ্তানি। গত অর্থ বছরে চা রপ্তানি কমে ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩৪৩ কোটি ডলার।
নেপালের ন্যাশনাল টি অ্যান্ড কফি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের পরিচালক দীপক খানাল বলেন, আমাদের চা নিন্মমানের ও দাম বেশ কম বলে ভারতের চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের ব্যবসায়ীদের। এতে আমাদের চা উৎপাদকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ভারতের ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেয়া দাম অনুযায়ি চা বিক্রি করতে হচ্ছে।
এসব বিষয় সুরাহার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানায় নেপালি টি অ্যাসোসিয়েশন। বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। ভারত বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনবিরোধী হবে বলে জানায় সংগঠনটি।
দেশটির সাবেক বাণিজ্য সচিব ওঝা বলেন, অভ্যন্তরীণ শিল্পরক্ষায় কোনো পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনবিরোধী। নেপালের চা দার্জিলিং চায়ের মতোই উৎকৃষ্ট, কেননা একই অঞ্চলে উৎপন্ন হয় এই চা।