নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের দুই সংস্থার একটি যৌথ প্রতিনিধিদল নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল ঘুরে দেখতে গেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা শুরুর অংশ হিসেবে এ সফরে যান তারা। গতকাল সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে তারা ভাসানচরে যান। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন-বিষয়ক কমিশনার শাহ মো. রেজোয়ান হায়াত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২১ সদস্যের এ প্রতিনিধিদলে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কর্মকর্তারা রয়েছেন।
শাহ মো. রেজোয়ান হায়াত বলেন, সেখানে কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক কাজ হিসেবে জাতিসংঘের টিমটি ভাসানচরে গেল। তারা কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করবেন।
শুরুতে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও সেই অবস্থান বদলে সম্প্রতি ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য কাজ শুরু করতে সম্মত হয় জাতিসংঘ। এ বিষয়ে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিও করে ইউএনএইচসিআর।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেছিলেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালিত হবে। বেসামরিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে ভাসানচরে, যে কাজটি এতদিন সরকার একাই করে আসছিল।
বাংলাদেশ সরকার সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা এবং জাতিসংঘ, সহযোগী সংস্থা ও দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে।
ভাসানচর প্রকল্পের উপ-পরিচালক কমান্ডার আনোয়ারুল কবির বলেন, ইউএসএইচসিআর ও ডব্লিওএফপির ২১ সদস্যের দলটি সকাল সাড়ে ৯টায় নৌবাহিনীর জাহাজ ডলফিনে করে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর নাগাদ তারা সেখানে পৌঁছায়।
প্রতিনিধিদলটি সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন দিন থাকবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাসানচরে সাপ্লাই চেইন কী রকম হবে, তাদের অফিস, স্টোরেজ ও মানবিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে তারা কাজ করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
ভাসানচরে চলাচলের সুবিধার জন্য প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি যানবাহনও জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে রয়েছে। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে যোগ হয় আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখ রোহিঙ্গার সহায়তার জন্য জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছিল। তবে কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার যখন রোহিঙ্গাদের একাংশকে নোয়াখালীর জনবিরল দ্বীপ ভাসানচরে নেয়ার উদ্যোগ নেয়, তাতে শুরুতে বিরোধিতা করে বিশ্ব সংস্থাটি।
এর মধ্যে গত দেড় বছরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে মানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয় এবং তাতে সাফল্যও আসে। বর্তমানে ভাসানচরে সাড়ে ১৮ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন বলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।