Print Date & Time : 21 April 2026 Tuesday 11:44 am

ভিন্ন নামে এলেও জামায়াতের নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। তাই ওই দলের ব্যক্তিরা ভিন্ন নামে আবেদন করলেও নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না। তবে যেহেতু আদালত বলেছেন, তাহলে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি নতুন করে আবেদন করে একই মানুষ, কিন্তু ভিন্ন দল, তাহলে কি সুযোগ আছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর বলেন, একই মানুষ আসবে কি না, তা তো আর বলতে পারব না। যারা আবেদন করছেন, যদি দেখি যে ক্রাইটেরিয়া মেলে না, তাহলে তো দিতে পারব না। 

অন্য নামেও হলে কি নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ আছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ ইসি সচিব বলেন, অন্য নামে হলেও তো জিনিস তো একই। দলের গঠনতন্ত্র যদি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হয়, তাহলে তো কোনো সুযোগ নেই। আদালতের আদেশ পরিবর্তিত হলে তো সেটা অন্য বিষয়। নতুন দল সম্পর্কে তদন্ত রিপোর্ট কি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নেয়া হয়Ñএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত নয়। আইনে আছে আমাদের কর্মকর্তারাই তদন্ত করবেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। কয়েক দফা শুনানির পর হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্ট এক রায়ে জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়া আইনগত কর্তৃত্ব-বহির্ভূত ও আইনগত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেন। 

জামায়াতে ইসলামী সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। তবে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়কে স্থগিত না করে আপিল আবেদন গ্রহণ করায় হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতেই ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। আপিল বিভাগ জামায়াতের সেই আপিল খারিজ করে করে দেন ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর দলটিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল।