শেয়ার বিজ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ভোক্তা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।
উপদেষ্টা তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে গতকাল এ কথা বলেন। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে সহজলভ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোক্তা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।’
অপর এক পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগামী মাসে রিজার্ভ হবে ২৭ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার জন্য সময় প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৫ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২০ হাজার ৭ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।’
উল্লেখ্য, গ্রাহক পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত রোববার বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের জারি করা পরিপত্রে এই তথ্য জানা যায়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্য যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট ট্যারিফ প্রণয়নে সরকারি/বেসরকারি সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের (আইএসপি) জন্য বিটিআরসি কর্তৃক একটি খসড়া প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে সরকার কর্তৃক ট্যারিফটি অনুমোদিত হয়।
৫ এমবিপিএস সংযোগে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা, ১০ এমবিপিএসে ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা এবং ২০ এমবি পিএস সংযোগে মাসিক ১২০০ টাকার পরিবর্তে ১১০০ টাকা দিতে হবে গ্রাহকদের।
ট্যারিফের শর্তাবলি: বিটিআরসির লাইসেন্সধারী সব সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের আইএসপি প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লিখিত ট্যারিফটি ১ জুলাই থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত থাকবে এবং পরবর্তী সময় নতুন করে ট্যারিফ নির্ধারিত না হলে কমিশনের অনুমোদনক্রমে তা বলবৎ থাকবে। তবে কমিশন বাজার চাহিদা ও গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় যে কোনো সময় তা পরিবর্তন করতে পারবে।
গ্রাহক সেবা ও সেবার মান নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় জরিমানা শর্তসহ সেবার মান বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি সেবার মানদণ্ড নির্ধারণে এ, বি, সি গ্রেড মোতাবেক গ্রেড অব সার্ভিস বজায় রাখতে প্রতিটি আইএসপি বাধ্য থাকবে। সব ধরনের আইএসপির ক্ষেত্রে গ্রাহক পাঁচদিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মাসিক বিল ৫০ শতাংশ দেবে, ১০ দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মাসিক বিলের ২৫ শতাংশ দেবে এবং ১৫ দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে ওই মাসে কোনো মাসিক বিল দেবে না।
সরকারের অনুমোদিত ইন্টারনেট স্পিড সর্বনিম্ন সীমা পাঁচ এমবওপিএস বিদ্যমান রেখে ট্যারিফের তালিকা অনুযায়ী ৫, ১০, ২০ অথবা কামেকশন র্যাশিও ১:৮-কে আনুপাতিক হারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে কমিশনের অনুমোদনক্রমে গ্রাহকদের আইএসপি অন্যান্য প্রোডাক্টসেবা দিতে পারবে।
কমিশন থেকে অনুমোদিত ট্যারিফ চার্ট আইএসপিদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং অনুমোদিত সেবা বা ট্যারিফে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংযোজন গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্যারিফের বাইরে অনুমোদন ব্যতীত কোনো সেবা/প্রোডাক্ট পরিচালনা করলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইনানুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশন আইনি ব্যবস্থা নেবে।
গ্রাহক অভিযোগ (টিকেটিং নাম্বারসহ) দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করতে হবে, গ্রাহকের কোনো অভিযোগপ্রাপ্ত হলে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং গ্রাহক অভিযোগ ও অভিযোগ সমাধানের তথ্য কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
