ভোজ্যতেলের বাজারে নৈরাজ্য কাম্য নয়

সয়াবিন তেলের দাম প্রতিলিটারে আরও ৩৮ টাকা বাড়ছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। আজ থেকে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এমনটিই জানা যাচ্ছে। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ এত দাম বাড়ানো হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা সরকার বা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি অনেক তাড়াহুড়া করে এবং বলতে গেলে ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেই ঘোষিত হয়ে গেল। বিষয়টি অনেকটাই ধোঁয়াশাপূর্ণ বৈকি। তাছাড়া দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে যে কোনো ভোগ্যপণ্যের চরম সংকট সৃষ্টি হয়ে যায়। সাধারণত ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুদ করে রাখেন। এর আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। নতুন করে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় যাতে সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক বলে মনে করি।

এর আগে ২০১৯ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সারাদেশেই এক প্রকার নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেও সে সময় সংকট মোকাবিলা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে নানা মাধ্যমে জানা গিয়েছিল, বাজারে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য পেঁয়াজের ঘাটতি যতটা না দায়ী ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী ছিল ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফখোরী মানসিকতা।

বিভিন্ন দেশে উৎসব পার্বণের সময়ে ব্যবসায়ীদের উদার ভ‚মিকা রাখার নজির বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিলক্ষিত হয়। যেমন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব বড়দিন উপলক্ষে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রিতে বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, পবিত্র রমজান মাসে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়ীরা মুনাফা ছাড়াই পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়ে থাকেন। এ ধরনের ভালো কাজগুলো আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের ব্যবসায়ীদের উচিত এসব উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেয়া। কিন্তু শিক্ষা নেয়ার বিপরীত চিত্রই বেশি পরিলক্ষিত হয়।

এখন নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির যে ঘোষণা দেয়া হলো, তার মাধ্যমে বাজারে যাতে ব্যবসায়ীরা নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ না পান, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত কর্তব্য বলে মনে করি। ভোক্তা সাধারণ এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জাঁতাকলে পিষ্ট। এখন ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা বৈ কিছুই নয়। এমন পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি বাড়িয়ে সরকার বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।