‘কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ: কার্যক্রম সম্প্রসারণ না হওয়ায় বাড়ছে অর্থ পাচার ও চোরাচালান’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রতিনিয়ত ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। ভ্যাট বিভাগের সর্বশেষ সম্প্রসারণ হয়েছে ২০১১ সালে। এরপর প্রায় এক যুগ পার হচ্ছে। এর মধ্যে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা ও আদায় বেড়েছে প্রায় কয়েক গুণ। এই এক যুগে ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠান বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ, কিন্তু নতুন ভ্যাট কমিশনারেট স্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাস্টমস-সংক্রান্ত কার্যক্রমের আওতা বহুগুণে বাড়লেও নতুন কাস্টম হাউস স্থাপিত হয়নি।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, ১০০ টাকার পরোক্ষ কর (কাস্টমস ও ভ্যাট) আদায়ে প্রশাসনিক ব্যয় হয় ১৭ পয়সা। আর মোট রাজস্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আদায় করে এই দুই বিভাগ। অথচ এই দুই বিভাগের সম্প্রসারণ হয় না। ৩১তম বিসিএসের পর শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারেও কোনো সহকারী কমিশনার নিয়োগ হয়নি। দুই বিভাগের সম্প্রসারণ না হওয়ায় পদোন্নতিতে (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) জট তৈরি হয়েছে। দুই বিভাগের দ্রুত সম্প্রসারণ হলে একদিকে রাজস্ব আদায় কয়েকগুণ বাড়বে, অন্যদিকে পদোন্নতির জটলা নিরসন হবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।
প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বিদ্যমান জনবলের ওপর চাপ বাড়ছে। পদোন্নতি না থাকায় কাজে স্বস্তিও পাচ্ছেন না অনেকে। কাজের পরিধি বেড়েছে, রাজস্ব আহরণ বাড়ছে; কিন্তু কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আবার প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে যথাযথ সেবা প্রত্যাশা করাও ঠিক নয়।
লোকবল সংকটে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালানের নথি যাচাই, চালানের নমুনা পরীক্ষা, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা ও ডেটাবেজের তথ্য যাচাইসহ নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে আমদানিপণ্য ছাড়করণ ও রপ্তানিপণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বঞ্চনাবোধও বাড়ছে। কাজে গতি আনতে নতুন চারটি কাস্টম হাউস ও পাঁচটি ভ্যাট কমিশনারেট স্থাপনের প্রস্তাব এবং ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট দুই ভাগ হওয়ার ফাইল আটকে থাকায় অনেকের ক্ষোভও রয়েছে।
প্রতি বছর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ও আদায় বাড়ছে, অথচ কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের আওতা সম্প্রসারিত না হওয়ায় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কর্মকর্তারা। পদোন্নতি না পাওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়। কর্মকর্তারা সারাদেশে একযোগে ভ্যাট ও কাস্টমস কমিশনারদের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব ও শুল্ক আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি হলে দেশও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।