Print Date & Time : 14 May 2026 Thursday 9:51 pm

ভ্যাট নিবন্ধন সনদ ‘দৃশ্যমান’জায়গায় না রাখলে জরিমানা

রহমত রহমান: প্রতিদিনই ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন না নিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিলেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় না। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আছে কি না, তা ভোক্তা জানে না। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন সনদপত্র প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

যদিও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এ বিধান মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ আইন কঠোরভাবে পরিপালনে মাঠ অফিসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ৩০ জুন এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মো. জামাল হোসেনের সই করা একটি চিঠি সব ভ্যাট কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে। কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলাফল আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী ‘প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নির্দিষ্ট স্থানে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার কর সনদপত্র বা সেটার সত্যায়িত অনুলিপি এমনভাবে প্রদর্শন করে রাখবেন, যা সহজে দৃষ্টিগোচর হয়।’ নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক এ বিষয়টি প্রতিপালিত হলে প্রকৃত ভ্যাটদাতা তথা ক্রেতাসাধারণের মনে ভ্যাট বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এনবিআর নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য থেকে জানতে পেরেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি আইনের এ বিধানটি প্রতিপালন করছেন না, যা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী একটি জরিমানা আরোপযোগ্য অপরাধ।

এনবিআরের কাছে এ মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ের দপ্তরগুলো ভ্যাট আইনের এ বিধানটি নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিপালনে প্রত্যাশা অনুযায়ী যত্ববান নয়। এ বিষয়ের পরিপালন সুনিশ্চিত করার জন্য বোর্ড থেকে একাধিকবার কমিশনারদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব সভায় এ বিষয়ের পরিপালনের অপ্রতুলতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টিকে গুরুত্বসহ দেখার জন্য সদয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১৩ প্রতিপালন সুনিশ্চিত করার জন্য পুনর্নির্দেশ প্রদান করা হলো। চিঠিতে কয়েকটি কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়, যার মধ্যে রয়েছেÑমূসক আইনের

১৩ ধারার বিষয়টি নানা মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার দ্বারা করদাতাদের মোটিভেট করা, এ বিষয়ে ভ্যাট বিভাগ বা সার্কেলওয়ারি সার্ভে পরিচালনা করা, অপ্রতিপালনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রতিপালন নিশ্চিত করতে

 কমিশনারেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ অধিক্ষেত্রের নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা। চিঠিতে হুশিয়ার করে বলা হয়, বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য এনবিআরের কর্মকর্তারাও যেকোনো ভ্যাট কমিশনারেটের অধিক্ষেত্র আকস্মিক ভিজিট করবেন।

কয়েকজন ভ্যাট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সচেতন নয়। বলা হলেও অভ্যস্ত হচ্ছে না। সচেতনতা বাড়াতে জরিমানা শুরু করা হবে। চিঠির পরপরই কমিশনারেটগুলো বিভাগ ও সার্কেলকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া শুরু করেছে। এছাড়া সচেতনতা বাড়াতে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এসএমএস দেওয়া ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেছে।

ঢাকা ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেট বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, সব উৎপাদনকারী, সেবা প্রদানকারী, আমদানি-রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জানানো যাচ্ছে যে, মূসক আইন, ২০১২-এর ধারা ১৩ মোতাবেক প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার করের সনদপত্র তার নিবন্ধিত প্রাঙ্গণের সহজে দৃষ্টিগোচর হয়, এমন স্থানে প্রদর্শিত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যর্থতায়,একই আইনের ধারা ৮৫(১)(খ) মোতাবেক ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। এ কমিশনারেটের অধিক্ষেত্রাধীন সব ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন ও বিধি মোতাবেক সনদপত্র নিবন্ধিত প্রাঙ্গণে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে প্রদর্শন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনার মো. আজিজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সনদ টানানো হয়। এনবিআরের নির্দেশনার পর আমরা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এসএমএস দিচ্ছি, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেব।’

এ বিষয়ে মো. জামাল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা এখন ভ্যাটের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিপালন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এটা তারই নমুনা। প্রথমত, আমরা করদাতাদের নানাভাবে বিষয়টা জানাব, মোটিভেট করব। আমাদের মাঠ-দপ্তর সবাইকে সচেতন করব। তারপর কেউ না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এভাবে একটা প্রতিপালন সংস্কৃতি তৈরি হবে।’

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে এক লাখ ৬০ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ), মূসক ১৪০টি, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট ৩২ হাজার ৯৯৮টি, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট ১১ হাজার ৫২টি, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট ১৯ হাজার ৮৪৫টি, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট ২৪ হাজার ২৬৮টি, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট ২৯ হাজার ৪৫৪টি, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট ১০ হাজার ৬৬৯টি, রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট সাত হাজার ৪২২টি, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট ১০ হাজার ৬০০টি, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট সাত হাজার ৯৪টি ও কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট ১৮ হাজার ৮৮টি।