নিজস্ব প্রতিবেদক: ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে গুলশানের ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার (র ক্যানভাস বার) এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা)। সোমবার (১০ জানুয়ারি) এই মামলা করা হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মইনুল খান জানিয়েছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি ‘র ক্যানভাস বার’ নামে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট গোয়েন্দায় অভিযোগ করেন। যাতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত সেবা বিক্রি গোপন করে চালান ব্যতিত সেবা সরবরাহ করে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ ডিসেম্বর ভ্যাট গোয়েন্দার উপপরিচালক তানভীর আহমেদ এর নেতৃত্বে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল ‘র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ (৪১১, আর এম সেন্টার (৪র্থ তলা), ১০১ গুলশান এভিনিউ, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২) অভিযান পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়ে বারে মদ ও মদ জাতীয় দ্রব্য এবং রেস্টুরেন্টে খাবারের সেবা প্রদান করে আসছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে উপস্থিত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণের সহায়তায় মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি এবং মাদক সংক্রান্ত রেজিস্টার হতে মাদক দ্রব্যের মজুদের পরিমাণ নির্ণয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত রেজিস্টারে উল্লেখিত মজুদের পরিমাণের সহিত ওয়্যারহাউজ এবং দুটি কাউন্টারে রক্ষিত দেশি-বিদেশি মাদক দ্রব্যের তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ধারণ করা তথ্যাদি যাচাই করে সেবা বিক্রি সংক্রান্ত বাণিজ্যিক দলিলাদি লুকায়িত অবস্থায় আটক করা হয়। এসব তথ্য ভ্যাট দলিলাদির সাথে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালেল নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী বিক্রয় করেছেন ৬ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৮২১ টাকা (সম্পূরক শুল্ক এবং মূসকসহ); যার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট ৭৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৩ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি গুলশান ভ্যাট সার্কেল-৪ এ দাখিলপত্রের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। এক্ষেত্রে ৭৪ লাখ ৮ হাজার ৩১৪ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এই ফাঁকির উপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ৮৭ হাজার ৬৮৯ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়মূল্যের উপর ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ১৪৮ টাকা সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি গুলশান সার্কেল-৪ এ দাখিলপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার ১৩৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেছে। এক্ষেত্রে ৮৬ লাখ ৫২ হাজার ১৩ টাকা সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির তথ্যও পাওয়া গেছে। এই ফাঁকির উপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১ লাখ ১ হাজার ৬৩২ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য।

আরো দেখা গেছে, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির রেজিষ্ট্রার অনুসারে কম মদ ও মদজাতীয় পণ্য মজুদ থাকায় এক্ষেত্রে ভ্যাট বাবদ ৩৭ হাজার ৪০৪ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৪১ হাজার ৫৬০ টাকা প্রযোজ্য হবে। তদন্ত অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাট এর পরিমাণ ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৮ টাকা, সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭০৮ টাকা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২১ টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৭ টাকা সরকারি রাজস্ব পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। এছাড়া ভ্যাট আইনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাতে লেখা কাঁচা চালান ইস্যু করতে দেখা যায়। ইএফডি স্থাপন করা সত্ত্বেও ক্রেতাদের মূসক-৬.৪ দেয়নি। এটি ভ্যাট আইনের লংঘনজনিত অপরাধ। অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আজ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকৃত ভ্যাট আদায় ও অনিয়ম সংঘটনের দায়ে আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরো মনিটরিং করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মইনুল খান। উল্লেখ্য, বারে যে কোন খাবারের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য। এ বিষয়ে যোগাযোগ করেও র ক্যানভাস বার এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
###