ভ্রান্ত ধারণা থেকে বাটা শোরুমে ভাঙচুর লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে গত সোমবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ সময় ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান দাবি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাটার শোরুমে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাটার সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সংঘাতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা কিংবা বাটা ইসরায়েলি মালিকানাধীনÑএ তথ্যটি ভুল। সোমবার রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বাটা কর্তৃপক্ষ বলেছে, একটি ‘ভ্রান্ত’ ধারণা থেকে তাদের ব্যবসার ওপর এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

‘আমরা লক্ষ করছি, বাটাকে ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষে রাজনৈতিকভাবে জড়িত।’

নিজেদের ইতিহাস তুলে ধরে বাটার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাটা একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যার যাত্রা শুরু হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে এবং কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। দুঃখজনকভাবে এই ভ্রান্ত ধারণার ফলে বাংলাদেশে আমাদের কিছু আউটলেট সম্প্রতি ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।’

বাটার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।’

‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা নিয়ে ১৯৬২ সাল থেকে বাটা দেশজুড়ে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে চলেছে, গুণগত মান নিশ্চিত করছে। বাটা বাংলাদেশের সব সম্প্রদায়ের সম্মান রক্ষায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

উল্লেখ্য, গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ও ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার ঢাকাসহ বাংলাদেশের জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও ধর্মঘট চলে।

বিক্ষোভের মধেই ফাস্ট ফুড চেইন কেএফসি, পিৎজা হাট ও বাটার মতো বহুজাতিক ব্র্যান্ডের বিক্রয় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এছাড়া কোমল পানীয় কোকাকোলা, সেভেন আপ রাখায় বিভিন্ন দোকান ও রোস্তোরাঁয় হামলা করা হয়।