ময়মনসিংহে সবজির দাম বাড়তি, কমেছে মুরগির

মধ্যবয়সী রুমানা খাতুন। নিয়মিত বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্য কেনেন তিনি। স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য তাকেই বাজার করতে হয়। গতকাল বুধবার সকালে ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কালো বোরকা পরে মাছের বাজারে এসেছেন রুমানা খাতুন। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে বিক্রেতার সঙ্গে দামাদামি করতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু মাছের দাম কমাতে রাজি হচ্ছিলেন না বিক্রেতা।

এসময় কথা হয় রুমানা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মুরগির দাম যৎসামান্য কমলেও বেশিরভাগ সবজি ও মাছের দাম বেড়ে গেছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে নেই। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে না।’

একই বাজারে মাছ ও সবজি কিনতে আসেন সানোয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহের চেয়ে সবজি ও মাছের দাম বেড়ে গেছে। অথচ বাজারে এসব পণ্যের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। একেক বিক্রেতা একেক রকম দামে বিক্রি করে তাদের পকেট ভারী করছেন। ঠকছেন ক্রেতারা।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কেজিতে ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চিচিঙ্গা ৬০, পটোল ৬০, করলা ৬০, টমেটো ৩০, কচুর লতি ৭০, পেঁপে ৪০ এবং ছোট বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে মটরশুঁটি, বরবটি, বড় বেগুন, সজিনার ডাঁটা, শসা, গাঁজর, কাঁচামরিচ ও লাউয়ের দাম। বাঁধাকপি প্রতিটি ২০ টাকা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেবুর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে লেবু ৩০-৪০ টাকা হালি বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে সবজি বিক্রেতা চান মিয়া বলেন, শীতকালের সবজিগুলো এখনো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেগুলো চাহিদার তুলনায় কম। এছাড়া অন্য বেশিরভাগ সবজি পাইকারিভাবে বেশি দামে কেনা পড়ছে।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাউশ ও সিলভার কার্প মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-৬০ টাকা। অন্যান্য মাছের দামও বাড়তি।

অন্যদিকে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ১৮০, সাদা কক ২৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৬০ ও লাল কক ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ ও খাসির মাংস এক হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রতি হালি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।