মশিউর সিকিউরিটিজের অর্থ আত্মসাৎ: তদন্তে দুদকের সহযোগিতাচাইবে বিএসইসি

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সিকিউরিটিজ হাউসটির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের একযোগে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পেয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে সমন্বিত গ্রাহক হিসাব (সিসিএ) থেকে ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ও শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লোপাট করা হয়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মশিউর সিকিউরিটিজের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেয়ার ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউসটির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দুদকে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অবহিত করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে এর আগে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ডিএসইর পরিদর্শন দল ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির সিসিএ’তে ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঘাটতি পায়। এতে দেখা যায়, বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে ১২৪ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালে বানকো সিকিউরিটিজে ১২৮ কোটি টাকা ঘাটতি পাওয়া গেছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিএসইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেন বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। তদন্তে বিএসইসি দেখতে পায়, ব্রোকারেজ হাউসটি দীর্ঘদিন ধরেই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে সেই অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।