এসএম রুবেল, কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনা। অথচ সেই বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
গোরকঘাটা শাপলাপুর জনতা বাজার সড়কের রশিদ মিয়া ব্রিজটি মহেশখালী পৌরসভা ও ছোট মহেশখালীর সীমানায় অবস্থিত। প্রধান সড়কের ব্রিজ হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। দুই বছর আগে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। আর ব্রিজের পাশঘেঁষে পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয় লোহার পাটাতন দিয়ে তৈরি একটি বিকল্প ব্রিজ, যেটি দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছে যানবাহনগুলো। নড়বড়ে লোহার ব্রিজেই লেগে আছে লম্বা যানজট। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রয়েছে প্রাণহানির ঝুঁকি। একটু এদিক সেদিক হলেই যাত্রীবাহী গাড়িগুলো গিয়ে পড়বে খালের পানিতে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে এখানে। এছাড়া লোহার ব্রিজের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যানবাহন চললে কেঁপে ওঠে ব্রিজটি। ব্রিজটি দিয়ে হেঁটে পথচারী পারাপার করাও অত্যন্ত ঝুঁকি রয়েছে। অথচ নিরুপায় হয়ে এখানকার মানুষ যানবাহন নিয়ে এই মৃত্যুফাঁদ দিয়ে পার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সেখানে কথা হয় মনজুর, আবদুল গফুর, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন চালকের সঙ্গে। তারা জানান, ব্রিজেই প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের দুই সহকর্মী ব্রিজে দুর্ঘটনায় পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া রোগী পরিবহনে বেশী কষ্ট পেতে হয় তাদের।
জানা গেছে, চার কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকায় ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজটি নির্মাণের কাজ নিয়েছে এ আলী চৌধুরী-মনির আহমেদ (জেবি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লং গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। চলতি বছরের ৫ মার্চ নির্মাণকাজ শেষ করার চুক্তি থাকলেও এখনও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। তবে ব্রিজের ম্রমিকরা জানিয়েছেন, ব্রিজটির কাজ শেষ হতে আরও চার-পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে।
এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় পাশে তৈরি বিকল্প ব্রিজটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক মাস ধরে ঝুঁকি নিয়ে যান চললেও ব্রিজটি সংস্কারে ঠিকাদার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নীরব।
অবশ্য উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার বলেন, বিকল্প ব্রিজ নির্মাণের কাজ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণ ও যান চলাচলের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব তাদের। আমি তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করব।
জানা গেছে, ব্রিজটির এস্টিমেট ব্যয় ধরা ছিল ছয় কোটি ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু ঠিকাদার কাজ পাওয়ার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা কমিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি নেন চার কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকায়। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের কাজ সঠিক মাপে করছেন কি না, সেই প্রশ্নের বিপরীতে উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার আরও জানান, ঠিকাদার নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে করছেন। তিনি নিজে ব্রিজ নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন বলে জানান।




