মানসম্মত পণ্য তৈরি নিশ্চিত করুক ওষুধ আইন

দেশে নিন্ম মানের ওষুধ তৈরির অভিযোগ পুরোনো। গত ৭ জুন শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে ‘আটা-ময়দায় তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ: গ্রেপ্তার ১০’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এর আগেও নিন্ম মানের ওষুধ বাজারজাতকরণের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর দায়ে উচ্চ আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়া ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার দৃষ্টান্তও আছে। তবু কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না নিন্ম মানের ওষুধ তৈরি ও বিপণন।

নিন্ম মানের ওষুধ তৈরি করে খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামে ফয়েল পেপার দিয়ে সুন্দর করে চটকদার মোড়ক দিয়ে ওষুধ বাজারজাত করা হয়। বোঝার কোনো উপায় নেই, এটা আসল না নকল। আটা বা ময়দার সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি এসব নকল ওষুধ প্যাকেজিং করে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এগুলো ওষুধ তো নয়ই, সাধারণ খাবার হিসেবেও বিপজ্জনক।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনসাধারণ, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার পরও ভেজাল ওষুধ তৈরি বন্ধ করা যায়নি। মানসম্মত ওষুধ তৈরিতে সময়োপযোগী আইন না থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়নি। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ওষুধ আইন, ২০২২’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এতে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ আমদানি, ভেজাল ওষুধ তৈরির মতো অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রেখে নতুন একটি আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি ‘এটি অনেক বড় আইন’। মোট ১০৩টি ধারা এ আইনে রাখা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন কীভাবে চলবে, ওষুধের মান কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেসব ঠিক করার জন্য একটি নির্বাহী পর্ষদ থাকবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি, মজুত, বিতরণ  প্রভৃতির জন্য কীভাবে লাইসেন্স দেয়া হবে, লাইসেন্সপ্রাপ্তির যোগ্যতা কী থাকবেÑএগুলো পরিষদ ঠিক করবে। লাইসেন্স নেয়ার পর কেউ আইন লঙ্ঘন করলে লাইসেন্স স্থগিতের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১৯৮২ সালের ‘ড্রাগ অর্ডিন্যান্স’ এবং ১৯৪০ সালের ড্রাগ অ্যাক্ট দিয়ে এত দিন চলছিল। পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের ওষুধ নীতিমালাও অনুসরণ করা হচ্ছিল। পুরোনো আইনগুলোকে সমন্বিত ও হালনাগাদ করে এখন নতুন আইন হচ্ছে।

আমরা মনে করি, খসড়া আইন যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় সংসদে পাস করা হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যাতে অনুমোদিত ওষুধের বাইরে কোনো ওষুধ তৈরি না করে, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরেও ওষুধ নিবন্ধন, নমুনা পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনৈতিকভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলেই মানসম্মত পণ্য তৈরি ও বিপণন নিশ্চিত করা যাবে। বলা হয়ে থাকে, জনবলের স্বল্পতায় ঔষধ প্রশাসন প্রতি বছর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ওষুধের বাজার তদারকি এবং প্রতি বছর প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধের মান পরীক্ষা করতে পারে না। তাই অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগে পদক্ষেপ নিতে হবে।