মানসম্মত মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক নিশ্চিতে পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেটওয়ার্কসহ মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৬০ দিনের মধ্যে বিটিআরসিকে এফিডেভিট আকারে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কসহ মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে বিটিআরসির নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑতা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর দুর্বল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নের জন্য বিটিআরসি রেগুলেশন আইনের ৩ ও ৯ ধারার অধীন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়া জনসাধারণের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি কেন হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

গতকাল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সারোয়ার পায়েল।

গত ১২ জুন মোবাইল ফোনের দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ধীরগতি সমস্যার সমাধান করে গুণগতমানসম্মত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

ল রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য সাংবাদিক মেহেদী হাসান ডালিম, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসানের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন। তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, গ্রামীণফোনসহ মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীকে রিটে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তিতে আছেন। গ্রাহকের কাছ থেকে যে পরিমাণ খরচ নেয়া হয় সে তুলনায় সেবার মান হতাশাজনক। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো সে অনুযায়ী সেবা দেয়নি, যার ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

২০২০ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ডিজিটাল সেবার মান নিশ্চিতকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তালিকায় শেষের দিকে।

রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, দেশে ইন্টারনেটের গতি এতটাই দুর্বল যে, অনেক জায়গায় মানুষ ইন্টারনেটের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের যে টাকা দিয়ে নেট কিনতে হয় তার মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করা যায় না। অথচ নির্দিষ্ট সময়ে কেনা প্যাকেজ শেষ করতে না পারার অন্যতম কারণ হলো ইন্টারনেটের ধীরগতি। এ বিষয়ে বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ অভিযোগ জমা হয় বিআরটিসিতে অথচ কর্তৃপক্ষ নির্বিকারই থাকছে। আর গ্রাহকরা এখনো প্রচুর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।