সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, চীনা পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় দেশটি থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এমনটি দেখছেন না বিজিএমইএর সহসভাপতি ও আরডিএম গ্রুপের চেয়ারম্যান রকিবুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পণ্যর ওপর শুল্ক বৃদ্ধি আমাদের ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরির কথা হলেও, সে সুযোগটা আমরা কতটুকু নিতে পারব সেটা ডিপেন্ড করবে চায়নার সঙ্গে আমাদের লজিস্টিক সাপোর্টে পার্থক্য কতটুকু রয়েছে তার ওপর। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চায়না এক নম্বর আর আমরা দুই নম্বর অবস্থানে থাকলেও চায়নার সঙ্গে আমাদের ব্যবধান অনেক বেশি। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারত আমাদের কাছাকাছি। তাদের সঙ্গে তুলনা হয়, কিন্তু চায়নার সঙ্গে আমাদের দূরত্ব অনেক বেশি। চায়না আমাদের তুলনায় লিড টাইমে এক মাস এগিয়ে আছে। এছাড়া ওখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে কারখানা সরিয়ে অন্য দেশে নিতে কতটুকু আগ্রহী হবে, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।
কারণ আমাদের তুলনায় গবেষণা ও লজিস্টিক সাপোর্টে অনেক এগিয়ে চায়না। এদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে কিছুটা কমেছে কমলেও টানা চার মাস ধরে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে বিজিএমইএর দেয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে মোট ২৩ হাজার ৫৫২ মিলিয়ন ডলারের বা ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারিতে চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্যসহ
কিছু পণ্যের রপ্তানি কমলেও তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, হিমায়িত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। জানুয়ারিতে ৩ হাজার ৬৬৪ মিলিয়ন বা ৩৬৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধির হয়েছিল ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে ৩ হাজার ৭৭০ মিলিয়ন ডলার বা ৩৭৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। এ বিষয়ে পোশাক খাতের মালিরা বলেন, এখন ক্রয়াদেশের সময়। আগামী কয়েক মাস তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি থাকবে। কারখানাগুলোও ভালো ক্রয়াদেশ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের চীনা পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের বিষয়ে তারা বলেন, দেশটি থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কারখানাগুলো সুযোগ নিতে হলে সরকারকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের সমাধানের পাশাপাশি ব্যাংকিং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ও প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিম অব্যাহত রাখাও জরুরি।




