নিজস্ব প্রতিবেদক: সমস্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ৩০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় যেতে না পারার ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের ‘কোনো ছাড় দেয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় যেতে না পেরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে গতকাল বুধবার দুপুরে মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার হাজনাহ মো. হাশিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয় থেকে ৬ সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি করেছি। সাত দিনের ভেতরে রিপোর্ট দেবে। এ সমস্যা কাদের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, কেন শ্রমিকরা যেতে পারে নাইÑতদন্ত কমিটির রিপোর্টে যারা দোষী হবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
যে ১৭ হাজার শ্রমিক ভিসা পেয়েছেন, তাদের মালয়েশিয়ায় নেয়া ও কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করার কথাও বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘হাইকমিশনার তার সরকারকে জানাবে। আর আমরাও আশা করছি যে, আমাদের এ অনুরোধ তারা রক্ষা করার চেষ্টা করবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিদেশ যাওয়ার জন্য অ্যাপ্লাই করেছে, যারা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যারা ভিসা পায়নি, তাদের ব্যাপারেও আমাদের মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে। তাদের ক্ষতিপূরণের যে ব্যবস্থা করা যায় সেটা আমরা ব্যবস্থা করতেছি। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে খুব আন্তরিক।’
মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সে দেশে যাওয়ার অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের শেষ দিন ছিল ৩১ মে। কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না।
এই সুযোগে কিছু এজেন্সির যোগসাজশে এই রুটে ভাড়া ৩০ হাজার টাকা থেকে কয়েকগুণ বেড়ে লাখ টাকার বেশি হয়ে যায়।
এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকে গত শুক্রবার সকাল থেকে বিমানবন্দরে আসতে থাকেন। যেসব এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি, তারাই ডেকে আন তাদের। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দরে উৎকণ্ঠিত মানুষের ভিড় দেখা যায়।
সংকট লাঘবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করে। কিন্তু তাতে সর্বোচ্চ ২৭১ জন যাত্রীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ মেলে।
দিনভর অবস্থান করে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে রাতে কয়েকশ মানুষ বিমানবন্দর থেকে ফিরে যান।
বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, গত ২১ মে পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেয়। ২১ মের পর অনুমোদন দেয়ার কথা না থাকলেও মন্ত্রণালয় এর পরেও আরও ১ হাজার ১১২ জনকে অনুমোদন দেয়।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন পেয়েও ৩১ হাজার ৭০১ জন মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।
এ সংকটের কারণ অনুসন্ধানে শনিবার ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হককে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীরা যাতে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, রিক্রুটিং এজেন্সির নাম, পাসপোর্ট নম্বর, বিএমইটির স্মার্ট কার্ডের কপি এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণসহ বিস্তারিত তথ্য আগামী ৮ জুনের মধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই।
‘আমাদের যা নেয়া হয়েছে এতেই বেশি হয়ে গেছে। আর অন্যান্য দেশ থেকেও আমাদের শ্রমিক নিতে হয়েছে।’
সময় বাড়ানো সুযোগ না থাকলে সরকার কীসের ভিত্তিতে চেষ্টা করার কথা বলছে, সেই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছি। তারা না করেছে, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব। চেষ্টা করতে কি কোনো অসুবিধা আছে?’