শেয়ার বিজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ২৮-এ নতুন একটি বৈশ্বিক জোটের অংশ হিসেবে মিথেইন হ্রাসের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডেইরি প্রতিষ্ঠানগুলো। বড় ছয়টি ডেইরি প্রতিষ্ঠান শিগগির মিথেইন নির্গমন হ্রাসের এই প্রক্রিয়া শুরু করবে। খবর: ডেকান হেরাল্ড।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) মতে, বিশ্বে ৩০ শতাংশ মিথেইন নির্গমনের জন্য দায়ী সার ও পশু বর্জ্যের মতো প্রাণিসম্পদজাত দ্রব্য।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলো বলছে, এই বছরের কপ২৮ সম্মেলনে পশুসম্পদজাত মিথেইন নির্গমন মোকাবিলা করাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
মিথেইন নির্গমন হ্রাসে গঠিত ডেইরি মিথেইন অ্যাকশন অ্যালায়েন্স নামের নতুন এই জোটের ছয় সদস্য প্রতিষ্ঠান হলো—ডানোন, বেল গ্রুপ, জেনারেল মিলস, ল্যাকট্যালিস ইউএসএ, ক্রাফট হেইঞ্জ ও নেসলে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের মিথেইন নির্গমনের প্রতিবেদন দেয়া শুরু করবে। ওই বছরের শেষ নাগাদ লিখিতভাবে মিথেইন অ্যাকশন প্ল্যান প্রকাশ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রতিষ্ঠানগুলোর এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা হ্রাসের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে ডানোনের গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস অ্যাডামো বলেন, ডেইরি মিথেইন নির্গমন কমানোর অর্থ হলো কৃষকদের ফিড সংযোজনের মতো সম্ভাব্য সমাধানগুলো নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করা।
তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানের কোনো দ্রুত ও অলৌকিক উপায় নেই। বিভিন্ন অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন বিকল্পের কথা আমাদের এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
চলতি বছরে ডানোন তাদের তাজা দুধ সরবরাহ প্রক্রিয়া থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মিথেইনের নির্গমন ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
ক্লাইমেট ক্লিন এয়ার কোয়ালিশন ও ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের করা ২০২১ সালের একটি জরিপ সমীক্ষা অনুসারে, মানবসৃষ্ট কারণে হওয়া মিথেইনের নির্গমন এই দশকের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে পারলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা সম্ভব হবে।
এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডসের (ইডিএফ) বিজনেস সেক্টরের সিনিয়র ডিরেক্টর কেটি অ্যান্ডারসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, নতুন জোটের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মিথেইন নির্গমন হ্রাসের জন্য কোনো চুক্তি করতে হবে না। দক্ষ পরিমাপের মাধ্যমে সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল করাই প্রতিষ্ঠানগুলোর মিথেইন নির্গমন হ্রাসের মূল হাতিয়ার।
অ্যান্ডারসন বলেন, এসব বিষয় আরও বেশি দায়বদ্ধতা তৈরি করছে। গবেষকরা বলেছেন, শস্য উৎপাদনের জন্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ৯৫ শতাংশকে জলবায়ু নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়, তাহলে এসব অঞ্চলের অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। ফলে সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে।
এর আগে ২০২১ সালে গবেষকরা জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার সুদানো-সাহেলিয়ান অঞ্চল। জলবায়ু নিরাপদ অঞ্চল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়ে আসার আভাস মারাত্মক উদ্বেগের। এর কারণে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে। পশুপালন ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অনেক এলাকায় ভয়াবহ আকারে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। উচ্চমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ দেখা দিতে পারে তীব্র খরা। ফলে বিশ্বের ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি জায়গা মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে। চলতি বছর কপ২৮ সম্মেলনের নেতারা খাদ্য খাত থেকে গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা কমানোর জন্য অঙ্গীকার করেছেন।




