মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির

প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে জেলার ছয় উপজেলার মানুষজন। বিশেষ করে সিমান্তঘেঁষা ডিমলা উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী চর এলাকার ছিন্নমূল মানুষ বিপাকে পড়েছে।

গতকাল তাপমাত্রা সর্বনিন্ম ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমে নীলফামারী জেলায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা।

সেইসঙ্গে নীলফামারীর এ অঞ্চলে পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ১০টায় দৃষ্টিসীমা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

শৈত্যপ্রবাহে দুর্ভোগ বেড়েছে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের। শীতের তীব্রতার হাত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে মানুষজন। শীত ও ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে গোবাদি পশুকে চটের বস্তা দিয়ে জড়িয়ে রাখছে বাড়ির মালিকরা।

গতকাল সকাল ১০টায় জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এক প্রশ্নের জবাবে রিকশাচালক মঞ্জুর আলম (৪৩) জানান, ‘এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী রিকশায় ওঠেনি। তাছাড়া বাতাস ও ঠাণ্ডায় শহরে লোকজনের চলাফেরা অনেক কম। অধিকাংশ দোকানপাট এখনও বন্ধ রয়েছে। ঠাণ্ডায় রিকশা চালানো খুব কষ্টদায়ক কাজ। ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে কনকনে ঠাণ্ডায় রিকশা নিয়ে বের হতে হয়েছে।

অন্যদিকে জেলার ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগাখড়িবাড়ী গ্রামের আব্দুল মজিদ (৬৫) বলেন, ‘ছোট ছোট দুটি ঘর, সেটিও ভাঙাচোরা। শ্যাষ রাইতোত নিনন্দে আইসে না। ভাঙা ঘর দিয়া হু-হু করি পুড়িয়া পশ্চিয়া বাতাস ঢোকে। এবার সরকারি দান বা টাকাওয়ালা মানুষও কোনো কম্বল দেয় নাই। কায়ও একখান কম্বল দিলে আল্লাহ ওমার ভালো করলে হায়।’

উত্তরে সীমান্তবর্তী উপজেলা ডিমলা আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, ‘সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ অঞ্চলটি হিমলায়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছরই শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে।

এদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, ‘ঘন কুয়াশায় বিমানবন্দর রানওয়েতে সকাল ১০টায় দৃষ্টিসীমা ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার, যা ফ্লাইট ওঠানামার জন্য অপ্রতুল। অবশ্যই রানওয়ে এলাকায় সর্বনি¤œ দৃষ্টিসীমা থাকতে হবে দুই থেকে আড়াই হাজার মিটার। তবে দুপুরের মধ্যে কুয়াশা কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।