এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা কমেছে ৩৮ শতাংশ
শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা দলে দলে খন্ডকালীন চাকরি ছাড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাহীন সম্ভাবনার দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে তারা বিশ্বমানের শিক্ষা ও উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতেন। তবে, নতুন প্রশাসন আসার পর তাদের মধ্যে বহিস্কারের ভয় বেড়েছে। এ কারণে চাকরি ছাড়ছেন তারা। খবর: এনডিটিভি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মস্থলে কঠোর তদারকি এবং ওয়ার্ক পারমিটের অনিশ্চয়তার ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ৬৪ হাজার ৮টি ভিসা প্রদান করা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম।
কভিড-১৯ মহামারির পর শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধির ধারার এটি প্রথম বড় পতন। শিক্ষার্থীদের আরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সংকুচিত কর্মসংস্থানের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার এখন স্থানীয় কর্মীদের বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং নতুন অভিবাসন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার ‘স্থানীয়করণ’ নীতির কারণে নিয়োগকর্তাদের পক্ষে ভিসা স্পনসর করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বাইরে খণ্ডকালীন চাকরির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের নারসারাওপেতের একটি কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মঞ্জুষা নুথি বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক, আমি আর তার কাছে টাকা চাইতে পারি না। খুব কষ্ট করে ন্যূনতম খরচে চলার চেষ্টা করি। নুথি আগে এফ-১ ভিসায় থাকার কারণে গ্যাস স্টেশনে খণ্ডকালীন কাজ করতেন, সম্প্রতি ব্যাপক অভিযানের কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ব্যাংক ঋণ ৩০ লাখ রুপি, আর এই পরিস্থিতিতে কীভাবে তা পরিশোধ করব, তা জানি না। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বসবাসরত সাই অপর্ণা বলেন, চাকরি পাওয়া এখন সত্যিই কঠিন হয়ে গেছে। কখনও ভাবিনি পরিস্থিতি এত খারাপ হবে।
