শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯-পরবর্তী বিশ্বে মার্কিন ধনকুবেরদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্কের পর বিল গেটস চীন সফর করলেন। গতকাল শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করলেন মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস। ধারণা করা হচ্ছে, চীনে বিপুল বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবেররা। খবর: সিএনএন ও ইকোনমিকস টাইমস।
গতকাল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বিল গেটস। বেজিংয়ে সরকারি দিয়াওউতাই গেস্টহাউসে হয় এই বৈঠক। আলোচনা শেষে জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ওপর সবসময়ই আমার আশা ও আস্থা রয়েছে। আপনিই (বিল গেটস) আমার প্রথম মার্কিন বন্ধু, যার সঙ্গে চলতি বছর বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ
হলো। আমি বারবার বলি, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত হচ্ছে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক। আমি আশা করি, এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
চীনের কঠোর করোনাবিধি উঠে যাওয়ার পর দেশটি সফরে যাওয়া পশ্চিমা ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিল গেটস অন্যতম। শূন্য করোনাবিধির কারণে প্রায় তিন বছর দেশটির দরজা বিদেশিদের জন্য অনেকাংশে বন্ধ ছিল।
জানা গেছে, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে গবেষণা ও ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা চান বিল গেটস। বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও সিমঘিয়া ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে গ্লোবাল হেলথ ড্রাগ ডিসকভারি ইনস্টিটিউটের জন্য আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এরই মধ্যে গেটস ফাউন্ডেশন বলেছে, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনা প্রচেষ্টার সমর্থনে তারা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে। গত বৃহস্পতিবার বিল গেটস বেইজিংয়ে গ্লোবাল হেলথ ড্রাগ ডিসকভারি ইনস্টিটিউটে (জিএইচডিডিআই) বক্তৃতা দেন। গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ম্যালেরিয়া নির্মূল ও দারিদ্র্য হ্রাসে চীনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বিল গেটস। তিনি বলেছেন, চীন দারিদ্র্য হ্রাস ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তারা
বেইজিংভিত্তিক জিএইচডিডিআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা নবায়ন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গেটসের চীন সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ কভিড-পরবর্তী সময়ে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে রয়েছে চীন।
এর আগে গত মাসের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ছাড়াই চীন সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী একটি প্রাইভেট জেটে চড়ে চীন সফরে যান। তার সফরটির বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, চীনে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী ইলন মাস্ক। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের পর টেসলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলো চীন। দেশটির সাংহাইয়ে টেসলার বৃহত্তম উৎপাদন কারখানা রয়েছে। সফরকালে ইলন মাস্ক চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই সঙ্গে তিনি চীনের সাংহাইয়ে টেসলার কারখানাও পরিদর্শন করেন।
টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চীনে। সম্প্রতি চীনও বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন শুরু করেছে। এ অবস্থায় চীনের বাজারে মাস্কের একচেটিয়া বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদিও মাস্কের মহাকাশ পরিবহন সংস্থা স্পেসএক্স ও স্যাটেলাইট
প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক নিয়ে চীনের আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ হাতছাড়ার আশঙ্কা করছে ভারত। দেশটির পরিসংখ্যান বলছে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতির মূল দুর্বলতার জায়গা হলো বিদেশি বিনিয়োগ। দেশটিতে বেসরকারি বিনিয়োগও আশানুরূপ নয়, ব্যাপক ধাক্কা খাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগও। সরকারি তথ্য বলছে, গত এক বছরে দেশটিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৬ শতাংশের বেশি কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন ধনীদের চীন ভ্রমণ নয়াদিল্লির মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া ভারত সরকারের ঋণের পরিমাণ অতীতের তুলনায় বেড়েছে। কয়েক দিন আগে বর্তমান বছরে সরকারের আর্থিক ঘাটতির যে-তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে জিডিপির ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে মহামারির সময় এই ঘাটতি ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশে। সে সময় সরকারি খরচ কয়েকগুণ বেড়েছিল। দেশটির অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ঘাটতি বরাবর ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকত। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যে বছর ক্ষমতায় এলেন, তখন ঘাটতি ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মোদির প্রথম পাঁচ বছরে নতুন করে বাড়েনি। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে যা বাড়তে থাকে। কভিডকালে তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তারপরেও কমার হার দেখা যাচ্ছে না।