শেয়ার বিজ ডেস্ক : চীনের সঙ্গে চলমান শুল্ক ও বাণিজ্য উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ কোম্পানির জন্য চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ফরচুন ম্যাগাজিনের তালিকায় স্থান পাওয়া প্রায় অর্ধেক কোম্পানি রয়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকের আয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে বলে বৃহস্পতিবার মার্কিন চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে। খবর: রয়টার্স।
চেম্বার জানিয়েছে, বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে খুচরা পণ্য বিক্রেতা কোম্পানিগুলোয়। গত ১৭ মাস ধরে চলমান শুল্কারোপের প্রতিযোগিতার কারণে এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন, পরিবহন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় ৩০ লাখ কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করা গ্রুপটি জানিয়েছে, পূর্ববর্তী প্রান্তিকের ফলাফলের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়। সে আলোকে একে অন্যের কিছু রফতানি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরও পণ্য ও সেবা ক্রয়ে চীনের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য দ্বন্দ্ব আবারও বাড়তে পারে। মূলত নতুন শুল্কারোপের কারণে এটি হতে পারে বলে অভিমত তাদের। ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের বাণিজ্য অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, সে ব্যাপারেও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিকে স্বাগত জানায় চেম্বার। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা অবসানের লক্ষ্যে ছয় মাসের মধ্যে একটি বৃহৎ চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো যে ধরনের বাধার মুখে পড়ছে তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে বলে তাদের অভিমত।
অবশ্য স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উভয় পক্ষই কাজ করছে বলে দাবি করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, উচ্চ শুল্ক কমাবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটি বিভিন্ন কোম্পানি, জ্বালানি এবং উৎপাদিত পণ্য বেশি করে কিনবে চীন। তবে কোনো পক্ষই এ চুক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে ওই চুক্তি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সমঝোতার বিষয়গুলো প্রকাশ করার কথা জানান ফেং।




