প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কতিথ এক যুব লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বালিগাঁও এলাকায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার ঘটনাটি জানাজানি হয়।এ দিকে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শনিবার বিকালে পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে ওই যুবলীগ নেতা ও তার পরিবারের লোকজন।
ওই গৃহবধু(১৪) গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা।সে স্বামীর সঙ্গে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকায় বাড়া বাড়িতে থাকত।অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বাবু মোল্লা।সে বালিগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ভাতিজা ও মো.সামসুল মোল্লার ছেলে। বাবু আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়ভাবে সে নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে ব্যানার পোষ্টারে পরিচয় দিতেন।
ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী সুমন মিয়া তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে জানান, গাইবান্ধা জেলায় তাদের বাড়ী।আলুর মৌসুমে এই উপজেলায় শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন তিনি।রান্না-বান্নার সহযোগীতার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে আনে সে।স্ত্রীকে বালিগাঁও এলাকায় বাবু মোল্লার আত্মীয় সুজন মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।সাথে নিয়ে এসেছেন।সুমন শুক্রবার বিকেলে তাঁর স্ত্রীকে ঘরে একা রেখে কাজের টাকা আনতে যান।তখন ওই বাড়ীতে কোন মানুষ ছিল না। বাবু মোল্লা জোর করে সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।
সুমন শনিবার বিকালে বলেন, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখি স্ত্রী কাদছে।কাদার কারন জানতে চাইলে সে বলে বাবু মোল্লা তার সঙ্গে খারাপ কাজটি করেছে।পরে ১০০ টাকা আমার স্ত্রীকে দিয়ে বলছে,যত টাকা লাগে সে দিবে।কাউকে কিছু যেনো না বলে। বললে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেন।বিচার সালিশি করে বিষয়টি মিমাংসা করতে চাচ্ছে তাঁরা।
তবে দুপুরের পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে বাবু মোল্লার লোকজন।
স্থানীয়রা জানান,বাবু মোল্লা যুবলীগ নেতার পরিচয় দিয়ে জোর জুলুম করতো।সরকার পতনের পরেও তারা বহাল তবিয়তে আছে।তারা খুব প্রভাবশালী।তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ কোন কথা বলার সাহসও পায়না। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে বাবু মোল্লা আত্মগোপনে আছে। বাবু মোল্লার বাবা সামসুল মোল্লা ধর্ষণের শিকার ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে হুমকি-ধামকি দিয়ে এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বাবু মোল্লার মুঠো ফোনে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয়ে পেয়ে ফোন কেটে দেন।এর পর ফোন করা হলে সে আর রিসিভ করেননি।
তবে অভিযুক্তের বড় ভাই ফারুক মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,তাঁর বাবা সামসুল মোল্লা টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক আমির হোসেন দোলনের বাড়ি গেছেন।ফারুকের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তাঁরা ওই পরিবারটিকে কোন হুমকি-ধমকি দেননি।তাহলে পুলিশ ও স্থানীয়রা কেনো ওই দম্পতিকে বিকেলে বাড়িতে পায়নি, এমন প্রশ্ন করা হলে ফারুক বলেন,শনিবার ওই স্বামী-স্ত্রী কাজে গিয়ে ছিল। তাই তারা বাড়ি ছিল না।ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী কাজ করেন,নারী বাড়িতে থাকেন।এমন কথা প্রতিবেদক ফারুককে জানালে,ফারুক কোন কথা না বলে ফোন কেটে দেন।
রোববার (২৩ মার্চ) সকাল ১০ টার দিকে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ওই পরিবার যেখানে থাকতেন,সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।তবে পরিবারটি সেখানে ছিলনা।তাদের কোন হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারটিকে খোঁজে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।